31/08/2026
পোল্ট্রি খাতে 'কর্পোরেট হরিলুটের' অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত ছোট খামারিরা।
বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্প আজ এক গভীর সংকটে। দেশের অন্যতম আমিষ সরবরাহকারী এই খাতটি বর্তমানে নানাবিধ সংকটে জর্জরিত, যার মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে একটি আলোচিত শব্দ—'কর্পোরেট হরিলুট'। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড় কর্পোরেট কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া দখলদারিত্ব, সিন্ডিকেট ব্যবসা এবং পরিকল্পিত বাজার নিয়ন্ত্রণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হাজার হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারি।
সিন্ডিকেটের ছক ও বাজার নিয়ন্ত্রণ:
খামারিরা অভিযোগ করছেন, কর্পোরেট কোম্পানিগুলো একদিকে নিজেদের খামার ও হ্যাচারির মাধ্যমে উৎপাদন করে, আবার অন্যদিকে খুচরা বাজারে বাচ্চা, ফিড ও ওষুধের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে। এসব পণ্যের দাম ইচ্ছেমতো বাড়ানো-কমানো হয়, যার প্রভাব সরাসরি পড়ে ছোট খামারিদের ওপর।
এক খামারি বলেন,
“মুরগির বাচ্চা যখন ৯০ টাকা, তখন আমাগো পেছনে কেউ নাই। এখন যখন বাচ্চা ২০-২৫ টাকা, তখনও কোম্পানিগুলা নিজের খামার চালায়। আমরাই ডুবি।”
ক্ষতির মুখে ক্ষুদ্র খামারিরা:
প্রান্তিক খামারিরা বলছেন, একদিকে উৎপাদন খরচ বেড়েছে, অন্যদিকে বাজারে তাদের পণ্যের ন্যায্য দাম মিলছে না। ফলস্বরূপ, ঋণের বোঝা বাড়ছে, খামার বন্ধ হচ্ছে, অনেকে বিকল্প পেশায় চলে যাচ্ছেন। অথচ বড় কোম্পানিগুলো নিজেদের ফার্ম ও চেইন স্টোরের মাধ্যমে বাজারে সরাসরি বিক্রি করে টিকে থাকছে।
কন্ট্রাক্ট ফার্মিং: আধুনিক দাসত্বের ফাঁদ?
কর্পোরেটদের আরেকটি কৌশল হিসেবে অভিযোগ উঠছে ‘কন্ট্রাক্ট ফার্মিং’-এর ফাঁদ নিয়ে। কোম্পানিগুলো খামারিদের চুক্তিতে নিয়ে আসলেও বাস্তবে খামারিদের কোনো স্বাধীনতা থাকে না। নির্ধারিত মূল্যে বাচ্চা, ফিড ও ওষুধ কিনে কোম্পানির শর্তে মুরগি লালন-পালন করতে হয়। ফলে লাভ তো হয়ই না, উল্টো ক্ষতিই হয় অধিকাংশ সময়।
প্রতিযোগিতা কমিশনের নীরবতা ও সরকারের দায়:
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো বাজার তদারকির ঘাটতি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিষ্ক্রিয়তা। প্রতিযোগিতা কমিশন, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কোনো কার্যকর ভূমিকা পালন করছে না—এমন অভিযোগ খামারিদের।
বিশ্লেষকদের মত,
“যদি বাজারে ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত না হয়, তাহলে একসময় পোল্ট্রি খাত শুধু বড় কোম্পানিগুলোর হাতে চলে যাবে। এতে দেশের আমিষ নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়বে।”
সমাধানের পথ কী?