19/09/2026
আমি আর কোনোদিন 'মা' হতে চাই না।
অন্তত এই দেশে না! আমার সহ্যক্ষমতা অনেক কম!
শূন্যের ও নিচে! তারপরও জীবনের অনেক ঘাত-প্রতিঘাত দাঁতে দাঁত লাগিয়ে সহ্য করেছি, হয়তো ভবিষ্যৎয়েও করব। কিন্তু তাই বলে, শত মেডিসিন খেয়ে, সৃষ্টিকর্তার দরবারে কেঁদে কেটে, মানত করে, হাজারটা শারীরিক যন্ত্রণা আর মুড সুইং সামলে, দশটা মাসের কঠিন যুদ্ধ শেষে আমার নাড়ি ছেঁড়া ধনকে এই পৃথিবীর আলো দেখাব, কেবল কিছু নির্মম, জালিম মানুষের হাতে সে শেষ হয়ে যাওয়ার জন্য? আর সেটা আমাকে মেনে নিয়ে বাকি জীবন এই সোনার দেশের লাল-সবুজ পতাকাকে সালাম ঠুকতে হবে?
ওরা তো আর পাখি নয় যে খাঁচায় বন্দি করে আটকে রাখব! ওরা মানুষ। স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাইবে। খেলতে যাবে, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেবে, দোকানে যাবে, হাসপাতালে যাবে, রেস্টুরেন্টে খাবে, স্কুলে বা কোচিংয়ে যাবে...।
অথচ এভাবে পথ চলতে চলতে একদিন হয়তো কোনো ছিনতাইকারী তাকে তুলে নিয়ে যাবে; নয়তো রাস্তায় কোনো অনিয়ন্ত্রিত বাস বা বাইক পিষে দিয়ে যাবে; কিংবা মানুষের রূপ ধরে থাকা কোনো নরপশু নিজের কামনা মেটাতে তাকে ছিনিয়ে নেবে... তারপর সেই পাশবিক নির্যাতন শেষে ইট দিয়ে থেঁতলে বা শ্বাসরোধ করে নির্মমভাবে শেষ করে দেবে একটা তাজা প্রাণ!
আর আমি মা হিসেবে কি করব?
আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে হাউমাউ করে কাঁদবো।
কিছু মোবাইল সাংবাদিক আমার সেই ফুটেজ নিয়ে বেশ কয়েকদিন তাদের আইডি-পেইজের ডলার উঠাবে। সেই কান্না দেখে হয়তো প্রধানমন্ত্রী আসবে, তার স্ত্রী আসবে। আমাকে একটু বুকে জড়িয়ে ধরে বলবে, 'আমরা আপনার দুঃখটা বুঝতে পারছি...' হয়তো পঞ্চাশ হাজার কিংবা এক লাখ টাকার একটা চেক হাতে ধরিয়ে দেবে...আমার নাড়ি ছেঁড়া সন্তানের দাম এরচেয়ে বেশি হবে না!
ব্যস, তারপর আবার অন্য কোনো মায়ের বুক খালি হবে। আবারও সবাই আইডি-পেইজের ডলার উঠার নতুন টপিক পেয়ে যাবে। আর এই একই দেশে আমি আর আমার সন্তানের হ*ত্যাকারী একইসঙ্গে বসবাস করব!
এইতো, এটাই তো এই দেশের নিয়ম, বিচারব্যবস্থা, তাই না! আর কত মায়ের বুক ফাটা চিৎকারে তোমার আরশ ভারী হবে মাবুদ? আর কত কত মায়ের দীর্ঘশ্বাস মিশলে তুমি ইসরাফিল কে অনুমতি দিবা শিঙায় ফুঁ দেওয়ার জন্য? এই সোনার পৃথিবীতে এখন আর কোনো মানুষ বেঁচে নাই মাবুদ...চারিদিকে শুধুই অমানুষের গন্ধ!!