02/07/2025
একটি গ্রামে ছিলেন এক বৃদ্ধ মানুষ—সবার কাছে পরিচিত “দাদা” নামে। তার বাড়ির পাশে ছিল একটি পুরনো নলকূপ, যেটা প্রায় ৩০ বছর আগে বসানো হয়েছিল। সেই নলকূপের ঠান্ডা পানি দাদা খুব গর্ব করে খেতেন আর বলতেন,
“এই পানিই আমাকে আজও শক্তি দিয়ে রেখেছে!”
পাশের বাড়ির লোকজনও সেই নলকূপ থেকে পানি নিয়ে যেত। দাদার নলকূপ যেন ছিল গ্রামের আস্থা।
কিন্তু একদিন গ্রামে একটি স্বাস্থ্য ক্যাম্প হলো। সেখানে জানা গেল—এলাকার অনেক নলকূপের পানিতে আর্সেনিক আছে, যার মধ্যে দাদার নলকূপও একটি।
ডাক্তার বুঝিয়ে বললেন,
“আর্সেনিক পানির সাথে মিশে থাকলেও দেখা যায় না। কিন্তু এই বিষ ধীরে ধীরে শরীরের চামড়া, যকৃত, কিডনি—সবকিছু ক্ষতি করে। প্রতিবছর আর্সেনিক যুক্ত পানি পান করে মারা যায় ৪৩০০০ মানুষ!”
গ্রামের মানুষ ভয় পেলেও প্রথমে বিশ্বাস করতে চাইল না।
“আমরা তো অনেক বছর ধরেই খাচ্ছি, কিছু হয়নি!” – এটাই সবার কথা।
কিন্তু ঘটনা বদলালো, যখন রায়হান নামের ৯ বছরের একটি ছেলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ল। তার শরীরে ফুসকুড়ি, দুর্বলতা, আর প্রচণ্ড ক্লান্তি—সবই আর্সেনিকের লক্ষণ।
ডাক্তার তখন বললেন,
'শুধু বিশুদ্ধ নয়, আর্সেনিক, কেমিক্যাল মুক্ত পানি ব্যবহার করতেই হবে।'