14/05/2026
ধরুন, আমি আপনাকে এখন ১০০০ টাকা দেব। কিন্তু আমি যদি বলি, আপনি যদি মাত্র এক সপ্তাহ ধৈর্য ধরেন, তবে আমি আপনাকে ৩০০০ টাকা দেব, আপনি কোনটি বেছে নেবেন?
হার্ভার্ডের ফেলিক্স ওয়ারনেকেন এবং আলেকজান্দ্রা রোসাতির ২০০৭ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই পরীক্ষায় শিম্পাঞ্জিরা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি বুদ্ধিমান। পরীক্ষাটা খুব সিম্পল ছিল। শিম্পাঞ্জি এবং মানুষকে দুটো অপশন দেওয়া হয়েছিল। একপাশে ছিল 'ইমিডিয়েট রিওয়ার্ড', যেখানে সাথে সাথেই ২টা ট্রিট বা খাবার পাওয়া যাবে। আর অন্যপাশে ছিল 'ডিলেইড রিওয়ার্ড', যেখানে কিছুক্ষণ ধৈর্য ধরলে ৬টা ট্রিট পাওয়া যাবে।
অংকটা সহজ, অপেক্ষা করলে লাভ ৩ গুণ বেশি। কিন্তু দেখা গেল, শিম্পাঞ্জিরা সেই ৩ গুণ লাভের জন্য ৭২% ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরল, অথচ উন্নত মস্তিস্কের দাবিদার মানুষ মাত্র ১৯% ক্ষেত্রে সেই ধৈর্য দেখাতে পারল।
আমরা চাই 'ইন্সট্যান্ট গ্র্যাটিফিকেশন' বা এখনই কিছু একটা পাওয়া। মার্কেটিং এবং বিজনেসের ক্ষেত্রে এই ১৯ শতাংশের ইমপালসিভ আচরণই হলো বড় বড় সব ধ্বংসের মূল কারণ।
আমরা এমন এক ডিজিটাল যুগে বাস করি যেখানে সবকিছু 'ইন্সট্যান্ট'। ইন্সট্যান্ট ফুড, ইন্সট্যান্ট মেসেজ, আর ব্যবসায়ীদের জন্য চটজলদি সেলস। কিন্তু এই দ্রুত রেজাল্ট পাওয়ার নেশা আমাদের মস্তিস্ককে এমনভাবে হাইজ্যাক করেছে যে, আমরা ভবিষ্যতের বড় সাকসেসকে বর্তমানের ছোট লাভের বিনিময়ে বিসর্জন দিচ্ছি।
মার্কেটিংয়ে একে আমরা বলি 'Hyperbolic Discounting'।
একজন বিজনেসম্যান যখন দেখেন আজ ফেসবুকে অ্যাড দিয়ে ৫টা প্রোডাক্ট সেল করা যাচ্ছে, তিনি খুশিতে আত্মহারা হয়ে যান। এটা খুবই স্বাভাবিক এবং দরকার ও আছে। কিন্তু সমস্যাটা হয় তখন, যখন তিনি ভুলে যান যে, এই ৫ জন কাস্টমারকে 'রিটেইন' করে যদি সারাজীবনের জন্য ধরে রাখা যেত, তবে ভবিষ্যতে সেটা থেকে ৫০০টা সেলের সমান প্রফিট আসত। এখানে কাজ আর করা হয়না।
অনেক কোম্পানি প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা খরচ করে নতুন নতুন কাস্টমার শিকার বা Hunt করে। এটা হলো সেই '২টা ট্রিট' যা তারা এখনই পাচ্ছে। এটা যেমন দরকার, তেমনি দরকার কাস্টমার সার্ভিসে আরো ইনভেস্ট করে ভবিষ্যতে '৬টা ট্রিট' এর মতো বড় রিটার্ন পাবার ব্যবস্থা করা।
শিম্পাঞ্জিরা হয়তো প্রকৃতির কঠিন পরিবেশ থেকে শিখেছে যে, ধৈর্য না ধরলে বড় শিকার ধরা যায় না। অথচ আমরা আধুনিক মানুষরা ভাবি, আজ এই কাস্টমারকে কোনোমতে একটা কিছু গছিয়ে দিতে পারলেই কাজ শেষ। আমরা ভুলে যাই যে, ব্র্যান্ডিং মানেই হলো ভবিষ্যতের রিওয়ার্ডের জন্য বর্তমানের লোভ সামলানো।
রিটেনশন বা কাস্টমারকে ধরে রাখা হলো পৃথিবীর অন্যতম ধৈর্যশীল কাজ। এখানে আজ বিনিয়োগ করলে ফল হয়তো ৬ মাস পর পাওয়া যায়। কিন্তু যারা এই ধৈর্য দেখাতে পারে, দিনশেষে ম্যারাথনে তারাই জেতে।
মার্কেটিং কেবল প্রোডাক্ট বিক্রির লড়াই নয়, এটি আসলে নিজের ইমপালসিভ মস্তিস্কের সাথে লড়াই করে দীর্ঘমেয়াদী আস্থা তৈরির এক কঠিন ফিলসফি। আমরা Grand Feast Cafe আসলে এই দীর্ঘমেয়াদী আস্থার জায়গাটা তৈরি করতে চাচ্ছি। আমরা আমাদের জার্নি নিয়ে খুবই খুশি আলহামদুলিল্লাহ।