15/01/2018
ড্রাগ অ্যাবিউসে বিপন্ন তারুণ্য: নেশার ট্যাবলেট নানা স্বাস্থ্যঝুকিসহ যৌণ ক্ষমতা নস্ট করে দেয় !
এক ভয়ঙ্কর নেশার নাম যৌন উত্তেজক ওষুধ। টার্গেট তরুণ-তরুণীদের কাছে পৌঁছেও গেছে ক্ষতিকর এ ওষুধ। নিছক উত্তেজনা বৃদ্ধি করে কুরুচিপূর্ণ যৌনাচার চর্চায় প্রলুব্ধ করতে গোপনে চলছে আমদানি নিষিদ্ধ উত্তেজক ওষুধের বিজ্ঞাপন। যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে চলছে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য।
ইদানীং দেশে ‘যৌন উত্তেজক’ বলে প্রচার করা অনুমোদনহীন ওষুধের বাজারও বাড়ছে,- কামাগ্রা, টেনেগ্রা, ফরজেস্ট, ক্যাবেটরা, টার্গেট ,ইয়াবা ও ইডেগ্রা বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানান বিক্রেতারা।
যুব সমাজের মধ্যেও যৌন উত্তেজক ওষুধ সেবনের মাত্রা বেড়ে গেছে। এতে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে, হতে পারে জটিল রোগ,এমন কি চিরতরে হারাতে পারেন যৌনসক্ষমতাও। স্বাস্থ্য ও মাদক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ওষুধ এক ধরনের মাদক। আসক্তি বাড়ানো ওষুধগুলো শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ইয়াবা- মাদকটির মূল উপাদান মেথঅ্যামফিটামিন। একসময় যা সর্দি ও নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ওষুধ হিসেবে ব্যবহূত হতো কোনো কোনো দেশে। ব্যবহার করা হতো ওজন কমানোর চিকিৎসায়ও। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ক্লান্তি দূর করতে ও সজাগ থাকতে সেনাদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিল মেথঅ্যামফিটামিন। পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষ বিশেষত শিক্ষার্থী, দীর্ঘযাত্রার গাড়িচালক ও দৌড়বিদেরা এটি ব্যবহার শুরু করেন।
‘যৌন উত্তেজক’ বলে প্রচার করা এসব ওষুধের কোনো উপকারিতাই নাই। বরং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক বেশি।রাত কাটে নির্ঘুম, শরীর নিস্তেজ হয়ে পড়তে থাকে, মেজাজ হয় খিটখিটে, গলা-মুখ শুকিয়ে আসতে থাকে অনবরত। প্রচণ্ড ঘাম আর গরমের অসহ্য অনুভূতি বাড়তে থাকে। বাড়ে নাড়ির গতি, রক্তচাপ, দেহের তাপমাত্রা আর শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি। দীর্ঘদিনের আসক্ত ব্যক্তিরা উচ্চরক্তচাপের রোগীই হয়ে পড়ে। মস্তিষ্কের ভেতরকার ছোট রক্তনালিগুলো ক্ষয় হতে থাকে, এগুলো ছিঁড়ে অনেকের রক্তক্ষরণ শুরু হয়। স্মৃতিশক্তি কমে যায়, মানসিক নানা রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, অহেতুক রাগারাগি, ভাঙচুরের প্রবণতা বাড়ে। পড়াশোনা, কর্মক্ষেত্র বা পারিবারিক জীবনে বিরূপ প্রভাব পড়ে। সব ক্ষেত্রে ব্যর্থতা বা পিছিয়ে পড়তে থাকায় আসক্ত ব্যক্তিরা বিষণ্নতায় আক্রান্ত হয়।কারও কারও মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দেয়। দৃষ্টিবিভ্রম, শ্রুতিবিভ্রম এসব ওষুধ হৃদরোগ ও কিডনি সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। দীর্ঘদিন ব্যবহারে দৃষ্টিশক্তি ও স্মৃতিশক্তি কমে যায়। এতে লিভার ও নার্ভ ড্যামেজ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।
যৌন ক্রিয়াকলাপ দেহের সাধারণ ধর্মকে অনুসরণ করে চলে। যৌন অক্ষমতা যদি কারো থাকেই,- সঙ্গির সহযোগিতা পেলে তা অনেকাংশেই দূর হয়। যৌন সঙ্গিনী যদি সাহায্যে করে, তাহলে যৌন অক্ষম নারী-পুরুষও দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। যৌনমিলন যে সঙ্গীর সঙ্গেই হোক না কেন, মনকে দৃঢ় রাখতে হবে, কোন প্রকার ভীতি সংশয় বা সন্দেহ মনে দেখা দিলে যৌন অক্ষমতা অনিবার্য হয়ে আত্মপ্রকাশ করে। মূল কথা হলো বিবাহিত নারী-পুরুষদের যৌন দুর্বলতায় কোনো ঔষধের প্রয়োজন নাই। নিয়মিত পরিচর্যা হলে শরীর ক্রমশঃ যেমন শক্তিশালী হয়, তেমনিও কামাবেগের তীব্রতাও বাড়ে।
কামোবোধ একটি স্বাভাবিক মানবিক প্রবৃত্তি,যৌনতাও আমাদের শরীরেরই একট অনুভূতি। তাই নিয়মিত ব্যায়াম, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনের মাধ্যমে আপনি যৌনতায় ফিট থাকতে পারেন। তার জন্য ক্ষতিকর ঔষধের প্রয়োজন নেই, উপযুক্ত চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কোনো ধরনের যৌন উত্তেজক ওষুধ সেবন করা কোনোভাবেই ঠিক নয়।