Kashful Agro

Kashful Agro Kashful Agro & Dairy Farm is the Pioneer Beef & Milk Producer in Bangladesh. We produce Corn Silage.

একজন খামারি গরু পালে ২ টা। সে গরুর রেশন ফর্মুলেশন এর বেসিক জিনিসগুলোই জানেনা। সে আমার কাছে আবদার করছে ট্রেস মিনারেল কিভা...
07/08/2026

একজন খামারি গরু পালে ২ টা। সে গরুর রেশন ফর্মুলেশন এর বেসিক জিনিসগুলোই জানেনা। সে আমার কাছে আবদার করছে ট্রেস মিনারেল কিভাবে বানায় তা শিখাইতাম। আমি বললাম এইটা তো এতোটা ইজি না যে আমি বললাম আর আপনি শিখে গেলেন। প্রথমে মিনারেল কি? মিনারেল কত প্রকার ও কি কি ? এরপর ওই মিনারেলের উপাদানগুলোর কার কি কাজ সেগুলো জানতে হবে।

এরপর আসবে ফর্মুলেশন এর ব্যাপার। ফর্মুলেশন যখন শিখতে যাবেন তখন আপনাকে রসায়ন জানতে হবে। একটা যৌগিক পদার্থ কিভাবে গঠন হয়? যৌগিক পদার্থের তিনটা পার্ট যেমন প্রোটন, নিউটন ও ইলেক্ট্রন কিভাবে কাজ করে? সারা পৃথিবীতে ইনঅর্গানিক যত মিনারেল পাওয়া যায় কোনোটাতেই ১০০% কন্সেন্ট্রেটেড মিনারেল পাওয়া যায় না। সল্ট আকারে পাওয়া যায়। ওই সল্ট থেকে আপনার কাঙ্ক্ষিত মিনারেলের পোরশন কতটুকু সেটা বের করতে হলে আপনাকে যৌগিক পদার্থের মোলার ম্যাস বা অ্যাটমিক ওয়েট সম্পর্কে জানতে হবে। এইসবকিছু জানার পর আপনি একটা মিনারেল সাপ্লিমেন্ট বানাতে পারবেন।

এখন ধরেন আপনি সবকিছু শিখে একটা মিনারেল সাপ্লিমেন্ট বানালেন। এখন কতটুকু রেশনে অ্যাড করবেন সেটা জানতে হলে আপনাকে এনিম্যাল নিউট্রিশন সম্পর্কে জানতে হবে এবং রেশন ফর্মুলেশন জানতে হবে।

এখন একটা উদাহরণের মাধ্যমে আমি একটা ধারণা দেই যেমন Cobalt হচ্ছে ট্রেস মিনারেলের একটা উপাদান। cobalt এর কাজ কি? রুমেন ব্যাকটেরিয়া ডায়টারি cobalt কে কোবালমিন বা ভিটামিন B12 এ রূপান্তর করে। কারণ গরু নিজে Vitamin B12 তৈরি করতে পারে না।

Vitamin B12 এনার্জি মেটাবোলিজম, নার্ভাস সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট ও ব্লাড প্রোডাকশন এ সহায়তা করে। আরও গুরুত্বপূর্ণ যে কাজটা করে তা হলো, এনার্জি থেকে রুমেন মাইক্রোবস যে propionate acid তৈরি করে সেটা থেকে লিভার যে গ্লুকোজ তৈরি করে তার জন্য লিভারের ভিটামিন B12 দরকার।

অল্প গরু যারা পালে তাদের মিনারেল বানানোর পিছনে সময় ব্যয় করা বোকামি। কারণ যে পরিমাণ কাঁচামাল লাগবে সেই পরিমাণ কাঁচামাল দোকানদার বিক্রিই করে না।

 #সাপ্লিমেন্ট_কি?ইদানিং ব্রয়লার ফিড এর মেডিসিন দিয়ে কৃত্রিমভাবে গরু মোটাতাজা করে সাপ্লিমেন্ট টার্মটাকে সামনে নিয়ে আসছ...
04/08/2026

#সাপ্লিমেন্ট_কি?

ইদানিং ব্রয়লার ফিড এর মেডিসিন দিয়ে কৃত্রিমভাবে গরু মোটাতাজা করে সাপ্লিমেন্ট টার্মটাকে সামনে নিয়ে আসছে। এইটা নিয়ে আবার শুরু হয়েছে কোটি টাকার বাণিজ্য। যখন সবাই আস্তে আস্তে সত্যটা বুঝতে শিখবে তখন দেখবেন সাপ্লিমেন্ট ব্যবসায়ীরা বেকার হয়ে যাবে।

আসুন এই সাপ্লিমেন্ট নিয়ে একটু আলোচনা করি। সাপ্লিমেন্ট আসলে কি? কিতাবের ভাষায় যদি বলতে হয় তাহলে সাপ্লিমেন্ট হচ্ছে, “কোনো নির্দিষ্ট খাদ্য উপাদান থেকে প্রাপ্ত পুষ্টির ঘাটতিকে পূরণ করার জন্য অন্য কোনো অর্গানিক বা ইনঅর্গানিক উপাদান অ্যাড করে ঘাটতি পুরনকে সাপ্লিমেন্ট বলে।”

উদাহরণস্বরূপ যদি ধরি, NRC (National Research Council of USA) গাইডলাইন মোতাবেক একটা গাভী বা ষাঁড় গরুর জন্য তার খাদ্যের ড্রাইম্যাটার এর ০.২১% ফসফরাস দরকার। তাহলে ১০০ কেজি ড্রাইম্যাটার এর জন্য (১০০ X ০.২১%) =০.২১ কেজি বা ২১০ গ্রাম ফসফরাস দরকার। ধরি যেসব উপাদান দিয়ে খাদ্য বানিয়েছি সেসব উপাদানগুলো থেকে মোট ১৬০ গ্রাম ফসফরাস পাচ্ছি। তাহলে এই রেশনে ফসফরাস এর ঘাটতি (ডেফিসিয়েন্সি) হলো (২১০ গ্রাম -১৬০ গ্রাম) =৫০ গ্রাম । তাহলে এই ৫০ গ্রাম ফসফরাস ইনঅর্গানিক সোর্স যেমন DCP বা MCP থেকে পূরণ করতে হবে। আমরা যদি DCP ব্যবহার করি তাহলে ৫০ গ্রাম ফসফরাস পাওয়ার জন্য কত টুকু DCP দিতে হবে?

আমরা জানি DCP তে ২২% ফসফরাস এবং ২৯% ক্যালসিয়াম থাকে তাহলে ৫০ গ্রাম ফসফরাস এর জন্য (৫০ X ১০০)/২২ =২২৭.২৭৩ গ্রাম DCP দিতে হবে।

এই যে রেশনে যে আমরা ২২৭.২৭ গ্রাম DCP অ্যাড করবো এইটাকেই বলে সাপ্লিমেন্ট। কিন্তু বাস্তবে আমরা মুড়ি মুড়কির মতো সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করে একদিকে খরচ বাড়াইতেছি অন্যদিকে গরুর ক্ষতি করতেছি।

গরুর জন্য আসলে কি দরকার সেটা আগে জানুন। না জেনে হাফেজসাব হুজুর কহিলু, “আমি উপকার পাইছি তাই আপনারাও কিনেন উপকার পাইবেন” এই ধরনের ডায়লগ এ মোটিভেটেড হয়ে আজাইরা সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

অনেকদিন হয় কোনো এড দেই না। তাই অনেকে ভাবছে হয়তো আমার কাছে সাইলেজ এর স্টক নাই। তাদের জ্ঞেতার্থে বলিতেছি, সারা বছরই আমার ...
03/08/2026

অনেকদিন হয় কোনো এড দেই না। তাই অনেকে ভাবছে হয়তো আমার কাছে সাইলেজ এর স্টক নাই। তাদের জ্ঞেতার্থে বলিতেছি, সারা বছরই আমার কাছে সাইলেজ এর স্টক থাকে ইনশাআল্লাহ। তাই যেকোনো সময় যে কোনো পরিমাণ পাবেন ইনশাআল্লাহ।

সাইলেজ প্রতি কেজি ১১ টাকা । পরিবহন খরচ ক্রেতা বহন করবে।

প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন:

mobile/Whatsapp: +8801707-690-990

 #গরুর_ক্যাটাগরি_ওয়াইজ_রেশন বেশিরভাগ খামারি বা খাদ্য ব্যবসায়ী জানেই না কোন ধরনের গরুকে কি টাইপ এর খাদ্য দিতে হবে। সবাই ...
30/07/2026

#গরুর_ক্যাটাগরি_ওয়াইজ_রেশন

বেশিরভাগ খামারি বা খাদ্য ব্যবসায়ী জানেই না কোন ধরনের গরুকে কি টাইপ এর খাদ্য দিতে হবে। সবাই একই ধরনের রেশন সব গরুকে খাওয়ায়। এতে ভালো ব্রীড এর গরুগুলোর গ্রোথ বাধাগ্রস্ত হয়। গরুর বড়িতে যখন ফ্যাট ডিপোজিট হয়ে যায় তখন তার ফ্রেম বড় হয় না। তাই উন্নত বিশ্বে একটা বাছুর জন্ম থেকে বড় হওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে কয়েকটি স্টেজ এ ভাগ করে খাদ্য খাওয়ানো হয়। যেমন-

১) উইনিং স্টেজ:
জন্ম থেকে ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত তার বডি ওয়েট এর ১০%-১২% পর্যন্ত দুধ খাওয়ানো।

২) ক্যাল্ফ স্টেজ:
নবম সপ্তাহ থেকে ৬ মাস বয়স পর্যন্ত সময়টাকে ক্যাল্ফ স্টেজ বলে। এই সময়ে বাছুরের রুমেন ডেভেলপিং পর্যায়ে থাকে এবং বোন ও টিসু গ্রোথ হয়। তাই এই সময়ে তাঁকে হাই প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার দিতে হয়। এনার্জির তুলনায় প্রোটিন সবসময় সারপ্লাস থাকবে।

৩) গ্রোয়িং স্টেজ:
৬ মাস থেকে ১৮ মাস বয়স পর্যন্ত গরুকে গ্রোইং স্টেজ বলা হয়। এই সময়ে মডারেট প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার দিতে হয়। অর্থাৎ প্রোটিন ও এনার্জি অপ্টিমাল ব্যালান্স থাকবে। এনার্জি সারপ্লাস থাকা যাবে না। এনার্জি সারপ্লাস থাকলে বডি তে ফ্যাট ডিপোজিট হবে আর ফ্যাট ডিপোজিট হলে গ্রোথ থেমে যাবে।

৪) ফিনিশিং স্টেজ:
সাধারণত এই সময়ে টার্গেট থাকে দ্রুত ওয়েট গেইন করা। তাই এই সময়ে এনার্জি সবসময় প্রোটিন এর তুলনায় সারপ্লাস থাকবে।

রুমিন্যান্ট প্রাণীর ক্ষেত্রে একটা সিম্পল সাইন্স হচ্ছে এরকম: আমরা গরুকে যে প্রোটিন ফিডিং করাই তার মধ্যে ডিগ্রেডেবল প্রোটিন থেকে যে অ্যামোনিয়া রিলিজ হয় তা রুমেন ব্যাকটেরিয়া মাইক্রোবায়াল প্রোটিন এ রূপান্তর করে। এই কাজটা করার জন্য রুমেন ব্যাকটেরিয়ার ভোলাটাইল ফ্যাটি অ্যাসিড দরকার যেটা এনার্জি থেকে তৈরি হয়। তো প্রোটিন থেকে যদি এনার্জি সাপ্লাই এর পরিমাণ বেশি হয় তাহলে অতিরিক্ত এনার্জি গরুর বডিতে ফ্যাট হিসেবে জমা হয়। আবার এনার্জি থেকে যদি প্রোটিন এর সাপ্লাই বেশি হয় তাহলে অতিরিক্ত অ্যামোনিয়া লিভারে গিয়ে ইউরিয়া তে রূপান্তরিত হয়, যার কিছু অংশ প্রস্রাবের সাথে বের হয় আর কিছু অংশ গরুর বডিতে রিসাইকেল হয়।

তাই গাভী বা বকনার ক্ষেত্রে এই এনার্জি এবং প্রোটিন এর মধ্যে ব্যালান্স থাকা জরুরি। তা না হলে গাভী বা বকনা ইনফার্টিলিটিতে ভুগবে । আর ষাঁড় গরুর ক্ষেত্রে গ্রোইং স্টেজ পর্যন্ত এনার্জি প্রোটিন ব্যালান্স রাখা জরুরি বাট ফিনিশিং স্টেজ এ এনার্জি প্রোটিন এর তুলনায় সারপ্লাস থাকবে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে কতটুকু প্রোটিন এর জন্য কতটুকু এনার্জি থাকলে সেটা ব্যালান্স হবে? গরুর ক্যাটাগরি মোতাবেক এইটা পরিমাপ করার বিভিন্ন ফর্মুলা আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে সহজ ও সর্বাধিক ব্যবহৃত মাধ্যম হলো CP:TDN (সিপি ও টিডিএন রেশিও)। গরুর ক্যাটাগরি অনুযায়ী CP:TDN রেশিও নিম্নরূপ:

১) ক্যাল্ফ স্টার্টার: ১:৪
২) গ্রোইং স্টেজ : ১:৫
৩) ফিনিশিং স্টেজ: ১:৭

CP:TDN = ১:৪ এর মানে হলো ১ কেজি CP এর জন্য ৪ কেজি TDN লাগবে। এই যে রেশিও টা দেওয়া হলো এইটা কিন্তু শুধু দানাদার এর জন্য না। গরুকে যে মোট ড্রাইম্যাটার দেওয়া হয় সেটাতে এই রেশিও টা মেইনটেইন করতে হবে।

 #ভুট্টা_ফার্মেন্টেশন_শেষ_পর্ব  #ভুট্টা ফারমেন্টেশনের সহজ পদ্ধতি এর আগের পর্বে লিখেছিলাম ১০০ কেজি ভুট্টায় ৩০ লিটার পানি...
28/07/2026

#ভুট্টা_ফার্মেন্টেশন_শেষ_পর্ব

#ভুট্টা ফারমেন্টেশনের সহজ পদ্ধতি

এর আগের পর্বে লিখেছিলাম ১০০ কেজি ভুট্টায় ৩০ লিটার পানি অ্যাড করে সেটাকে আনারবিক (airtight) কন্ডিশন এ ৬০ দিন রেখে দিলে ফারমেন্টেশনের ফলে তৈরি হওয়া মাইক্রোবায়াল এক্টিভিটি জেইন প্রোটিন কে পুরোপুরি সলুবলাইজ ও ভেঙ্গে স্টার্চ কে রুমেন ব্যাকটেরিয়ার জন্য অ্যাভেলেবেল করে তোলে।

এইভাবে ন্যাচারালি ভুট্টার স্টার্চ এ থাকা প্রোটিন ম্যাট্রিক্স ভাঙতে ৬০ দিন সময় নেয়। এতোটা সময় অনেকের পক্ষেই অপেক্ষা করা সম্ভব নাও হতে পারে। এই সময়টা কিভাবে কমানো যায় তা নিচে আলোচনা করা হলো:

মাইক্রোবায়াল ফারমেন্টেশন:
১০০ কেজি ভুট্টাকে ফারমেন্টেশনের জন্য কি কি লাগবে?
১) ১০০ কেজি ভুট্টা ভাঙ্গা
২) ৩০-৪০ লিটার গরম পানি (সর্বনিন্ম ৩০ লিটার সর্বোচ্চ ৪০ লিটার)
৩) ১-২ কেজি মোলাসেস (চিটা গুড়)
৪) ৪-৫ গ্রাম Lactobacillus Bucheneri ব্যাকটেরিয়া । এইটা গরম পানিতে দেওয়া যাবে না। আলাদা করে ভুট্টায় স্প্রে করে পুরো ভুট্টায় মিশাতে হবে।

এইভাবে সবকিছু এক সাথে মিশিয়ে এয়ারটাইট বস্তায় বা কন্টেইনার এ কমপক্ষে ৩০ দিন রেখে দিতে হবে। ৩০ দিন পর এই ফারমেন্টেড কর্ন গরুকে তার রেশনের ৭০% পর্যন্ত খাওয়াতে পারবেন।

নরমালি জাস্ট পানি দিয়ে বায়ুনিরোধী করে রেখে দিলে ৬০ দিন আর ইনকুল্যান্টস দিলে ৩০ দিন কেনো? কারণ হচ্ছে আমি যখন লাইভ ব্যাকটেরিয়া অ্যাড করবো এবং সাথে তাদের খাবার দিবো তখন ওইখানে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া বংশ বিস্তার করে। ব্যাকটেরিয়ার CFU বেশি হবার কারণে মাইক্রোবায়াল এক্টিভিটিও বেশি হবে। সো প্রসেসিংটাও দ্রুত হবে।

 #ভুট্টা_ফার্মেন্টেশন_ষষ্ট_পর্ব #ভুট্টা_ফার্মেন্টেশন_পদ্ধতিভুট্টোকে কেনো ফারমেন্টেশন করা প্রয়োজন তা বুঝানোর জন্যে আমাকে...
23/07/2026

#ভুট্টা_ফার্মেন্টেশন_ষষ্ট_পর্ব

#ভুট্টা_ফার্মেন্টেশন_পদ্ধতি

ভুট্টোকে কেনো ফারমেন্টেশন করা প্রয়োজন তা বুঝানোর জন্যে আমাকে আগের ৫ টা পর্ব লিখতে হয়েছে। আমি যথাসাধ্য বুঝানোর চেষ্টা করেছি ।

মাইক্রোবায়াল ফারমেন্টেশন:
যেকোনো জিনিসকে ফারমেন্টেশন করার পূর্ব শর্ত হলো সেটাতে মিনিমাম ২৮% থেকে ৩২% ময়শ্চার থাকতে হবে। কিন্তু শুকনো ভুট্টা তো ১২% থেকে ১৪% ময়েশ্চার সমৃদ্ধ। তাহলে উপায় কি? ২ টা উপায় আছে যেমন:

(১) কাঙ্খিত ময়েশ্চার এ হারভেস্ট করা:
৩২% এর উপরে থাকা অবস্থায় হারভেস্ট করে ফারমেন্টেশন করা। বা মৌসুমে দেখবেন অনেক এলাকায় হারভেস্ট করে মাড়াই করে কাচা ভুট্টা কেনাবেচা হয়। আবার অনেক এলাকায় আলু করার পর যে ভুট্টা টা চাষ করা হয় জৈষ্ঠ্য-আষাঢ় মাসে অনবরত বৃষ্টির কারণে শুকাইতে পারে না। সেই ভুট্টাগুলো কাচা অবস্থায় ক্রাশিং করে ফারমেন্টেশন করা যায়।

(২) রিকনস্টিটিউটেড কর্ন:
শুকনো ভুট্টার সাথে পানি মিশিয়ে কাঙ্খিত ময়েশ্চার এ নেওয়াকে বলে রিকনস্টিটিউটেড কর্ন। এখন প্রশ্ন হলো ১২% ময়েশ্চার এর ভুট্টাকে ৩২% ময়েশ্চার এ নিতে হলে কতটুকু পানি দিতে হবে? এইটাত আন্দাজে দিলে হবে না।

আমেরিকার পাইওনিয়ার সিডস কোম্পানি কর্ন সাইলেজ, হাই ময়েশ্চার কর্ন ও রিকনস্টিটিউটেড কর্ন ইত্যাদি নিয়ে গবেষণামূলক নিবন্ধন প্রকাশ করেছে। তাদের রেকমেন্ডেশন অনুযায়ী শুকনো ভুট্টাকে যদি ১% ময়েশ্চার বাড়াতে চাই তাহলে ভুট্টার ওজনের ১.৫% পানি এড করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ:

ধরি আমরা ১০০ কেজি ভুট্টা কে ফারমেন্টেশন করবো। আমরা যে ভুট্টা সংরক্ষণ করি তার ময়েশ্চার হচ্ছে ১২% । ফার্মেন্টেশনের জন্য এই ১২% এর ভুট্টাকে ৩২% ময়েশ্চার এ নিয়ে যেতে চাই। তাহলে ময়েশ্চার বাড়াতে হবে (৩২% - ১২%) =০.২ বা ২০% ।

ফর্মুলায় বলা আছে ১% ময়েশ্চার বাড়ানোর জন্য ভুট্টার ওজনের ১.৫% পানি অ্যাড করতে হবে। তাহলে ২০% ময়েশ্চার বাড়ানোর জন্য ২০ X ১.৫ =৩০ লিটার পানি অ্যাড করতে হবে।

অর্থাৎ ১০০ কেজি ভুট্টায় ৩০ লিটার পানি অ্যাড করে সেটাকে আনারবিক (airtight) কন্ডিশন এ ৬০ দিন রেখে দিলে ফারমেন্টেশনের ফলে তৈরি হওয়া মাইক্রোবায়াল এক্টিভিটি জেইন প্রোটিন কে পুরোপুরি সলুবলাইজ ও ভেঙ্গে স্টার্চ কে রুমেন ব্যাকটেরিয়ার জন্য অ্যাভেলেবেল করে তোলে।

এই পর্বের লাস্ট প্যারাটাই বটম লাইন। এখন অনেকে বলবেন, “ভাই ১০০ কেজি ভুট্টায় ৩০ লিটার পানি দিয়ে এয়ারটাইট অবস্থায় ৬০ দিন রেখে দিলে ফারমেন্টেশন হয়ে যায়” এই টুকু বলে দিলেই তো হতো। তার জন্য এতোগুলো পর্ব লিখলেন কেনো?

শুনেন, যদি এইটুকু বলতাম তাহলে আপনারাই আমাকে ভাইরাল সাভারের আব্দুর রহিম, Nadim Agro, Hafez Saiful হুজুর, ব্রয়লার ফিড ও মেডিসিন দিয়ে গরু পালনকারী কুমিল্লার সফল খামারি ভাইদের মতো ভাবতেন। তাদেরকে যদি প্রশ্ন করেন MCP ৭০০ গ্রাম কেনো দিলেন তারা বলবে এইটা দিয়ে আমি রেজাল্ট পাইছি তাই দিছি। কিন্তু কোনো লজিক্যাল ব্যাখ্যা তারা দিতে পারবে না। অডিয়েন্সদের প্রতিটা প্রশ্নের উত্তর যেনো বৈজ্ঞানিকভাবে দিতে পারি তার জন্যই এতো ডিপলি প্রতিটা টপিকস কে ব্যাখ্যা করি।

আমরা সকালে ফার্মেন্টেশন করে বিকেলে খাওয়াতে চাওয়া খামারী আমাদের কি ৬০ দিন অপেক্ষা করা সম্ভব? না সম্ভব না। তাহলে উপায়? হুম সেই উপায় নিয়েই পরবর্তী পর্বে লিখবো।

20/07/2026

#ভুট্টা_ফার্মেন্টেশন_পঞ্চম_পর্ব

অনেকেই মনে করেন ভুট্টাকে মিহি করে পাউডার করে খাওয়ালে বুঝি পুরোপুরি হজম হয়ে যাবে। এই ধারণাটা ভুল। ভুট্টা ক্রাশিং করলে কিছুটা হজমের পরিমাণ বাড়ে বাট পুরোপুরি না। কারণ ভুট্টার ৭২% স্টার্চ। তাই প্রসেসিং না করে দিলে এর মধ্যে ৩০% ডাইজেস্ট করতে পারে। কারণ স্টার্চ কে জেইন প্রোটিন (প্রোটিন ম্যাট্রিক্স) আবরিত করে রাখে যার ফলে রুমেন ব্যাকটেরিয়া স্টার্চ এ এক্সেস পায় না।

এর আগের পোস্ট এ আলোচনা করেছি কিভাবে বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি স্টার্চ কে ভেঙ্গে ইথানল, এলকোহল ও কর্ন স্টার্চ তৈরি করে। বাট রুমিনেন্ট প্রাণীর জন্য জেইন প্রোটিন কে ভেঙ্গে কিভাবে স্টার্চ কে রুমেন ব্যাক্টেরিয়ার জন্য এক্সেসিবল করা যায় তার ২ টা পদ্ধতি আছে। যেমন:

(১) স্টিম ফ্ল্যাকিং
(২) মাইক্রোবায়াল ফার্মেন্টেশন

(১) স্টিম ফ্লেকিং:
স্টার্চ এর প্রোটিন ম্যাট্রিক্স ভাঙার জন্য এই পদ্ধতিটা সবচেয়ে সহজ বাট ফ্ল্যাকিং মেশিন লাগবে যা এখনো আমাদের দেশে পাওয়া যায় না। অর্থাৎ স্টিম করা ভুট্টা দুই বা ততোধিক রোলারের মধ্য দিয়ে চেপ্টা হয়ে বের হবে।

(২) মাইক্রোবায়াল ফারমেন্টেশন:
ভুট্টার এন্ডস্পার্ম এ ৪ ধরনের প্রোটিন থাকে যেমন Albumins, Globulins, Glutelins and Prolamins । এই ৪ টার মধ্যে Prolamins (Called Zein Protein) এর পরিমাণ হচ্ছে ৬০% । বাকি ৩ টা পানি ও রুমেন ফ্লুইড এ দ্রবণীয় হলেও Prolamins ওয়াটার সলিউবল না। একমাত্র অ্যাসেটিক এসিড ও ল্যাকটিক এসিড prolamins কে ওয়াটার সলিউবল করার জন্য প্রাথমিক সলভেন্ট হিসেবে কাজ করে। এই জন্যই ফার্মেন্টেশনের প্রয়োজন পড়ে।
এসিটিক ও ল্যাকটিক এসিড কিভাবে তৈরি হয়?:
ভুট্টাকে সঠিক ময়েশ্চার (২৮% - ৩২% ) এ নিয়ে ফার্মেন্টেশন করা হলে তাতে অ্যাসেটিক এসিড ও ল্যাকটিক এসিড তৈরি হয়। এই এসিটিক এনভায়রনমেন্ট এর কারণে ভুট্টার এন্ডস্পার্ম এ থাকা Hydrophobic Zein Protein ন্যাচারালি সলুবলাইজ ও ভেঙ্গে যায়। অর্থাৎ ন্যাচারালি একমাত্র অ্যাসেটিক এসিড ও ল্যাকটিক এসিড ই পারে স্টার্চ এর সাথে বাইন্ডিং থাকা প্রোটিন ম্যাট্রিক্স কে দ্রবীভূত ও ভেঙ্গে স্টার্চ থেকে আলাদা করতে। সোজা কথায় বলতে গেলে ফারমেন্টেশনের ফলে যে ব্যাকটেরিয়া (অ্যাসেটিক এসিড ও ল্যাকটিক এসিড ) গ্রো করে তারা Hydrophobic Zein Protein কে আবসর্ব করে স্টার্চ কে রুমেন ব্যাকটেরিয়ার নিকট সহজলভ্য করে তোলে।

উপসংহার:
তাহলে বুঝেন কোথাকার জল কোথায় গড়াইতেছে? স্টার্চ যখন রুমেন ব্যাকটেরিয়ার নিকট সহজে এক্সেসিবল হবে তখন তারা ইজিলি VFA (Volatile Fatty Acid) তৈরি করতে পারবে যার সাহায্যে ব্যাক্টেরিয়াগুলো প্রোটিন কে ইজিলি সিনথেসিস করে মাইক্রোবায়াল প্রোটিন এ রূপান্তর করতে পারবে।

এখন দেখেন খাদ্যকে প্রসেস করে খাওয়ালে কম পরিমাণ খাদ্য দিয়েও গরু সহজে মোটাতাজা করা যায়।

পরবর্তি পর্বে মাইক্রোবায়াল ফারমেন্টেশন এর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিগুলো নিয়ে বিস্তারিত লিখবো।

 #ভুট্টা_ফার্মেন্টেশন_চতুর্থ_পর্বপৃথিবীব্যাপী উৎপাদিত ভুট্টার খুব কম পরিমাণই এনিম্যাল ফিড হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বাট ভুট্টার...
17/07/2026

#ভুট্টা_ফার্মেন্টেশন_চতুর্থ_পর্ব

পৃথিবীব্যাপী উৎপাদিত ভুট্টার খুব কম পরিমাণই এনিম্যাল ফিড হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বাট ভুট্টার বাইপ্রডাক্ট বিশ্বব্যাপী এনিম্যাল ফিড হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে। যেমন DDGS, কর্ন গ্লুটেন মিল, কর্ন ফাইবার ইত্যাদি হচ্ছে ভুট্টার বাইপ্রডাক্ট।

ভুট্টাতে থাকা স্টার্চ কে কেন্দ্র করে পৃথিবী ব্যাপী অনেক ইন্ডাস্ট্রি হয়েছে। কারণ কাগজ, টিস্যু, প্যাকেজিং কার্টুন ইত্যাদি ফ্যাক্টরিতে কর্ন স্টার্চ ব্যবহৃত হয়। কিন্তু স্টার্চ গ্রানুলা কে এমবেডেড ও এনক্যাপসুলেটেড থাকা জেইন প্রোটিন (প্রোটিন ম্যাট্রিক্স) স্টার্চ কে সরাসরি ব্যবহার করতে বাধা দেয়। তাই জেইন প্রোটিন কে স্টার্চ থেকে আলাদা করার প্রয়োজন হয়। ইন্ডাস্ট্রিয়ালি কর্ন ব্যবহৃত হয় এমন ইন্ডাস্ট্রিগুলো হলো:

(১) কর্ন স্টার্চ ইন্ডাস্ট্রি
(২) বায়োফুয়েল বা ইথানল ফ্যাক্টরি
(৩) এনিম্যাল ফিড

একেক ইন্ডাস্ট্রি তে ভুট্টাকে একেকভাবে প্রসেসিং করা হয়। শর্টলি যদি এই বিষয়গুলো আলোচনা করি তাহলে এই বিষয়ে কনসেপ্ট পুরোপুরি ক্লিয়ার হবে। এতে গরুর আরেকটি খাদ্য উপাদান DDGS কি এবং কিভাবে এইটা তৈরি হয় সেই সম্পর্কেও ধারণা পাবেন।

(১) কর্ন স্টার্চ ইন্ডাস্ট্রি:
এই ইন্ডাস্ট্রি তে ভুট্টাকে গরম পানিতে হিট দিয়ে তার সাথে সালফার ডাই অক্সাইড দিয়ে হাইড্রোলাইজ করে স্টার্চ থেকে জেইন প্রোটিন কে আলাদা করে র স্টার্চ বের করা হয়। এই ফ্যাক্টরি থেকেই কর্ন ফাইবার, কর্ন গ্লুটেন মিল ইত্যাদি বাইপ্রডাক্ট হিসেবে বের হয়।

(২) ইথানল ফ্যাক্টরি:
এই ইন্ডাস্ট্রি তে বায়োফুয়েল ইথানল, আলকোহল, ওয়াইন, বিয়ার ইত্যাদি তৈরি করা হয়। ার্ট টা বুঝা খুব ইম্পর্টান্ট তাই মার্ক করে দিলাম-

“এইখানে ভুট্টাকে সর্বনিন্ম ৮০ ডিগ্রি তাপমাত্রা গরম করা হয়। তারপর এর সাথে “আলফা এমায়লেজ” এনজাইম মিশিয়ে স্টার্চ কে গ্লুকোজ বা সুগার এ কনভার্ট করা হয়। এরপর সেই গ্লুকোজ কে #লাইভ_ইস্ট দিয়ে ফারমেন্টেশন করা হয়। ইস্ট দিয়ে ফারমেন্টেশন করার ফলে গ্লুকোজ ইথানলে কনভার্ট হয়ে যায়। এই ইথানল থেকেই এলকোহল তৈরি হয়।” যারা ইস্ট দিয়ে ভুট্টা ফারমেন্টেশন করতেছেন তারা একটু দেখে নিন এই পার্ট টা।

(৩) এনিম্যাল ফিড:
মনোগেস্টিক প্রাণী যেমন মানুষ, পোল্ট্রি বার্ড ইত্যাদি সরাসরি স্টার্চ ডাইজেস্ট করতে পারে বাট রুমিনেন্ট প্রাণী যেমন গরু ছাগল ইত্যাদি প্রাণীর রুমেন ব্যাকটেরিয়া স্টার্চ গ্রানুলাতে থাকা জেইন প্রোটিন (প্রোটিন ম্যাট্রিক্স) এর কারণে স্টার্চ এ ফুল এক্সেস পায় না। ফলে স্টার্চকে ভেঙ্গে ভোলাটাইল ফ্যাটি এসিড এ রূপান্তর করতে পারে না।

এখন বলতে পারেন তাহলে যারা পাউডার বা ক্রাশিং করে ভুট্টা খাওয়াচ্ছে তাদের গুলো কি গরু ডাইজেস্ট করতে পারছে না? হুম পারতেছে বাট সেটা টোটাল স্টার্চ এর মাত্র ৩০% । তাহলে উপায় কি?

রুমিন্যান্ট প্রাণীর জন্য স্টার্চ এর সাথে আবদ্ধ থাকা প্রোটিন ম্যাট্রিক্স (Zein Protein) কে আলাদা করার ২ টা পদ্ধতি আছে। পরবর্তী পর্বে এই ২ টা পদ্ধতি সম্পর্কে লিখবো।

উপসংহার:
এই পর্বের উপসংহারে বলতে পারি, যখন স্টার্চ থেকে জেইন প্রোটিন আইসলেট হয়ে যাবে তখন রুমেন ব্যাকটেরিয়া সেই স্টার্চ কে পুরোপুরিভাবে ভোলাটাইল ফ্যাটি এসিড (প্রোপায়নিক এসিড) এ রূপান্তর করতে পারবে। এতে শুধু ভুট্টার ডাইজেস্টিবিলিটি বাড়বে তা না, রুমেন ডিগ্রেডেবল প্রোটিন কে ব্যাক্টেরিয়াগুলো দ্রুত মাইক্রোবায়াল প্রোটিন এ রূপান্তর করতে পারবে।

14/07/2026

#ভুট্টা_ফার্মেন্টেশন_তৃতীয়_পর্ব

ভুট্টার কার্নেল এর মধ্যে বেসিক্যালি ৩ টা পার্ট থাকে যেমন:
১) Pericarp (ভুট্টার ভুষি)
২) Germ (ফ্যাট, প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেল)
৩) Endosperm (স্টার্চ)

উপরের ৩ টা পার্ট একটু ডিটেইলস আলোচনা করি যাতে আপনারা নিজেরাই কিছুটা বুঝতে পারেন ভুট্টার কোন অংশটা ডাইজেস্টিবল আর কোন অংশটা মোর ডাইজেস্টিবল করার জন্য প্রসেস করা দরকার হয়।

(১) Pericarp (ভুট্টার ভুষি):
ভুট্টার দানা পাতলা প্লাস্টিকের মতো যে উপাদান দিয়ে আবৃত থাকে তাঁকে পেরিকার্প বলে। ভুট্টার এই অংশটার ক্যামিকেল কম্পোজিশন অনেকটা ঘাসের ক্যামিকেল কম্পোজিশনের মতো। কারণ ভুট্টার এই ডায়টারি ফাইবার অংশে থাকে সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ ও অল্প পরিমাণে লিগনিন। এই পেরিকার্প পুরোটাই ডাইজেস্টিবল। ভুট্টার মোট ওজনের ১% - ২% থাকে পেরিকার্প ।

২) Germ (ফ্যাট, প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেল):
ভুট্টার এই অংশে থাকে lipids (fat), প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেলস। এই অংশের পুরোটাই গরু ডাইজেস্ট করতে পারে। ভুট্টার মোট ওজনের ১০% - ১২% থাকে এই জার্ম ।

৩) Endosperm (স্টার্চ):
ভুট্টা দানার মোট ওজনের ৮৫% হচ্ছে এই এন্ডস্পার্ম । এই যে যত মেক্যানিকেল প্রসেস, ক্যামিকেল প্রসেস, ফারমেন্টেশন প্রসেস যা হচ্ছে সবই এই অংশটাকে ডাইজেস্টিবল করার জন্য। চলুন তাহলে একটু ডিটেইলস এ গিয়ে দেখি কর্ন স্টার্চ এমন কি জটিল প্রক্রিয়ায় গঠিত যার জন্য এতো কিছু করা লাগে!!

endosperm এর মধ্যে ৩ টা পার্ট থাকে যেমন-
১) স্টার্চ
২) প্রোটিন ম্যাট্রিক্স
৩) নন স্টার্চ পলিসেচারাইডস

starch (স্টার্চ):
স্টার্চ হচ্ছে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট। এইটা Polysaccharide (পলিসেচারাইডস)। অনেকগুলো চিনির দানা যখন একসাথে আবদ্ধ থাকে তাঁকে polysaccharide বলে।

প্রোটিন ম্যাট্রিক্স:
ভুট্টার endosperm এর মধ্যে এমন একটি জটিল নেটওয়ার্ক থাকে যেখানে স্টার্চ এর দানাগুলো হাইড্রোফোবিক জেইন প্রোটিন দ্বারা মুড়ানো থাকে। এইটাকেই প্রোটিন ম্যাট্রিক্স বলে। এই প্রোটিন ম্যাট্রিক্স স্টার্চ এর মধ্যে এমন একটা ব্যারিয়ার তৈরি করে যেটাতে রুমেনের ব্যাক্টেরিয়াগুলোকে স্টার্চ আবসর্বসন এ বাধা দেয়। এইজন্য দেখবেন ভুট্টার দানা গোবরের সাথে দেখা যায়। মেইন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এই প্রোটিন ম্যাট্রিক্স কে ভেঙ্গে স্টার্চ এ রুমেন ব্যাক্টেরিয়াগুলোকে এক্সেস দেয়া যাতে তারা স্টার্চ ভেঙ্গে প্রোপায়নিক অ্যাসিড তৈরি করতে পারে।

(৩) Non Starch Polysaccharide:
Endosperm এর এই অংশে থাকে ফাইবার এবং সেলুলোজ যেটা গরু ইজিলি ডাইজেস্ট করতে পারে।

উপসংহার:
ভুট্টার ফিজিক্যাল স্ট্রাকচার এনালাইসিস করে আমরা যেটা দেখলাম তা হলো ১৫% ইজিলি ডাইজেস্টিবল বাট প্রোটিন ম্যাট্রিক্স এর কারণে এন্ডস্পার্ম এ থাকা স্টার্চ এ রুমেন ব্যাকটেরিয়ার একসেস থাকে না। এইজন্য বেশিরভাগ স্টার্চ আন্ডাইজেস্টিবল অবস্থায়ই গোবরের সাথে বের হয়ে যায়। তাই যারা ভুট্টার মেষ পাউডার করে বা ইস্ট দিয়ে ফার্মেন্টেশন করে গরুকে খাওইয়া ভাবতেছেন সব হজম হয়ে যাচ্ছে। আপনাদের জন্য সমবেদনা। কারণ এই ২ টার একটা পদ্ধতিও স্টার্চ থেকে জেইন প্রোটিন কে আলাদা করতে পারে না।

সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং বিষয় কি জানেন? আমি যাদের সাথে কথা বলেছি কেউ ই ফিড লস এর এইসব বেপারগুলো নিয়ে কনসার্ন না। তারা শিখছে গোবরের সাথে দেখা যায় না মানে হজম হচ্ছে। আরে ভাই আপনি যদি পাউডার করে দেন তাহলে গোবরে দেখবেন কিভাবে?

পরবর্তী পড়বে লিখবো কিভাবে স্টার্চ কে আবদ্ধ করে রাখা প্রোটিন ম্যাট্রিক্স কে ভাঙা যায়।?

12/07/2026

#ভুট্টা_ফার্মেন্টেশন_দ্বিতীয় _পর্ব

মানুষের খাদ্যের মধ্যে যেমন সবচেয়ে সস্তা এনার্জি সোর্স হচ্ছে ভাত তেমনি গো-খাদ্যের মধ্যে সবচেয়ে সস্তা এনার্জি সোর্স হচ্ছে ভুট্টা।

কিন্তু ভুট্টা দাম ও মান বিবেচনায় সবচেয়ে উৎকৃষ্ট এনার্জি সোর্স হলেও গো-খাদ্যের মধ্যে বেশি পরিমাণ ব্যবহার করতে পারি না কেনো? কারণ হলো এর ফিজিক্যাল গঠন। এর জটিল ফিজিক্যাল গঠনের কারণে ইহাকে খাওয়ানোর পূর্বে মেকানিকাল ও কেমিকাল প্রসেসিং করার দরকার হয়। সেইখান থেকেই বেসিক্যালি ফারমেন্টেশনের প্রয়োজনীয়তা টা আসছে।

ভুট্টাকে প্রসেসিং করার আগে চলুন দেখি গরু যখন ভুট্টা খায় তখন তার রুমেন এ সেই ভুট্টা কিভাবে ডাইজেস্ট হয়? তাহলে ভুট্টাকে প্রসেসিং করার প্রয়োজনীয়তা টা অনুভব করতে পারবেন।
গরু ভুট্টা খেলে রুমেনে কি ঘটে?
গরু ভুট্টা খাওয়ার পর রুমেন ব্যাকটেরিয়া সেই ভুট্টাতে থাকা স্টার্চ কে Ferment (গাঁজন) করে হাই এনার্জি ভোলাটাইল ফ্যাটি এসিড VFA (Volatile Fatty Acid) এ রূপান্তর করে। এখন কোন ফরমেট এ দিলে ওই স্টার্চ এ রুমেন ব্যাক্টেরিয়ার সর্বোচ্চ একসেস থাকবে ওই ফরমেট ই দিতে হবে।

বাস্তবে যেটা দেখি তা হলো, ভুট্টাকে যদি দানা দানা খাওয়ানো হয় তাহলে গোবরের সাথে বের হয়ে যায়। আবার যদি আটার মতো পাউডার করা হয় তাহলে এইটা রুমেনে খুব দ্রুত ফার্মেন্টেশন হয়, ফলে রুমেনের pH অসংকাজনকভাবে ড্রপ করে এর কারণে ফাইবার ডাইজেস্টিং উপকারী ব্যাকটেরিয়া মারা যায় যার ফলে গরুর পেটে গ্যাস হয়। এইজন্য ভুট্টাকে দানা দানা করে ভাংগাইয়া খাওয়াতে হয়।

কিন্তু বড় দানা খাওয়ালে সেটা গোবরের সাথে বের হয়ে যায়। এইখানেই সমস্যা। কারণ থিওরিটাকালিতো ভুট্টার কার্নেলে থাকা স্টার্চ ফার্মেন্টেশন হয়ে VFA (Volatile Fatty Acid) এ রূপান্তর হওয়ার কথা! তাহলে ভুট্টার দানা গোবরের সাথে বের হয়ে আসতেছে কেনো? এই কেনোর উত্তর বের করতে হলে আমাদেরকে ভুট্টার ফিজিক্যাল গঠনের এনালাইসিস করতে হবে। ওই এনালাইসিস টা যখন বুঝবেন তখন আপনারাই বুঝে যাবেন ভুট্টা ফারমেন্টেশন নিয়ে যে সার্কাস চলতেছে তা পুরোটাই ভাঁওতাবাজি। তাই পরবর্তী পর্বে ভুট্টার স্ট্রাকচারাল বৈশিষ্ট্য নিয়ে লিখবো।

Address

Sonargaon
Narayanganj
1440

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Kashful Agro posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category