09/07/2026
বৃষ্টি হচ্ছে....!! ঝুম বৃষ্টি... !!!
____________
হুট করে প্রচণ্ড বৃষ্টি শুরু হলে অধিকাংশ মানুষ কি করে? দৌড়ে বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচার চেষ্টা করে। মুখে ফুটে উঠে বিরক্তির ছাপ-
“উফ! বৃষ্টি হচ্ছে।”
কোনোরকমে গা বাঁচিয়ে বাসায় যেয়ে হাই ভলিউমে “যদি মন কাঁদে” কিংবা “আমার সারাটি দিন মেঘলা আকাশ”- শুনে বাঙ্গালীরা বৃষ্টিবিলাস করে। একটু শৌখিন হলে হয়তো ভুনা খিচুড়ি খেয়ে ঝাড়া ঘুম।
আচ্ছা! বৃষ্টি এলে রাসূল (সা.) কি করতেন? তিনি কিন্তু মোটেও পালিয়ে যেতেন না। বরং প্রচণ্ড খুশি হতেন। খুব সাবধানতার সাথে তিনি তাঁর পবিত্র দেহের কিছু অংশ উন্মুক্ত করে বৃষ্টির পরশ বোলাতেন।
আনাস (রা.) বলেন - “আমরা যখন রাসূল (সা.) এর সাথে বসা ছিলাম, তখন বৃষ্টি এলো। তিনি শরীরের কিছু অংশ উন্মুক্ত করে বৃষ্টিকে অনুভব করলেন। আমরা বললাম, “হে রাসূলুল্লাহ! আপনি এমন কেন করলেন?” তিনি বললেন, “কারণ এটা (এই বৃষ্টি) অবশ্যই আমার রবের পক্ষ থেকে এসেছে।” (সহীহ মুসলিম)
____________
ইমাম কুরতুবী (রহ.) এই হাদীস সম্পর্কে বলেন - “আমাদের নবী (সা.) বৃষ্টির বারাকাহ পেতে এমনটা করতেন। কারণ, আল্লাহ্ তায়ালা বৃষ্টিকে রহমত, মনোরম এবং সংশোধক বলে বর্ণনা করেছেন। এই হাদীস আমাদের আরো শেখায় যে, প্রত্যেকেরই এই বর্ষণকে সম্মান করা উচিত এবং এর সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করা থেকে বিরত হওয়া উচিত।” (আল-মুফহিম)
সাহাবীরা এই সুন্নাহ অনুসরণে খুবই আগ্রহী ছিলেন। উসমান (রা.) বৃষ্টির শুরুতে নিজেকে উন্মুক্ত করতেন। আব্বাস (রা.) ও অনুরূপ করতেন। আলী (রা.) বৃষ্টির মধ্যে বসে থাকতেন আর বলতেন-
حَدِيثُ عَهْدٍ بِالْعَرْشِ
“এটা অবশ্যই আল্লাহ্র আরশ থেকে এসেছে।” (ইবনু আবী শায়বা)
রাসূল (সা.) বৃষ্টি এলে দুয়া করতেন-
للَّهُمَّ صَيِّباً نَافِعاً
“হে আল্লাহ! মুষলধারায় উপকারী বৃষ্টি বর্ষণ করুন।” (সহীহ বুখারী)
পরের বার বৃষ্টি হলে চেষ্টা করুন না দৌড়াতে। না পালাতে। ছাতাটা বন্ধ করুন। চলার পথে একটুখানি থমকে দাঁড়ান। শরীরের কিছু অংশ উন্মুক্ত করুন। আর দেহের কিছু অংশকে বৃষ্টির সংস্পর্শে আসতে দিন। রাসূল (সা.) এর সুন্নাহকে আবার জীবিত করুন।
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂