21/07/2026
ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর এবং পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে জনমনে যে প্রত্যাশা ও আস্থার সঞ্চার হয়েছে, তার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু জামায়াতে ইসলামী। জনগণ কেবল একটি রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে নয়, বরং নৈতিকতা, জবাবদিহিতা, আমানতদারিতা ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে জামায়াতকে মূল্যায়ন করতে চায়। এই জনআস্থার মর্যাদা সংরক্ষণ করা আজ সময়ের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
এমন বাস্তবতায় জামায়াতের প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হবে সুদূরপ্রসারী, প্রজ্ঞাপূর্ণ, পরিমিতিবোধসম্পন্ন ও দূরদর্শিতার আলোকে পরিমাপিত। সাময়িক আবেগ, ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা কিংবা নেতৃত্বের অহমিকা যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব বিস্তার করে, তবে তা সংগঠনের জন্য দীর্ঘমেয়াদে অকল্যাণকর হতে পারে। আত্মসমালোচনা, আত্মশুদ্ধি এবং নীতিনিষ্ঠতার চর্চাই হওয়া উচিত অগ্রযাত্রার প্রধান ভিত্তি।
সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। অতএব প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা, বিচক্ষণতা ও নৈতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা অপরিহার্য। জনপ্রতিনিধি হিসেবে এমন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিতে হবে, যারা তাকওয়াবান, সৎ, আমানতদার, দক্ষ, প্রজ্ঞাবান, জনকল্যাণে নিবেদিত এবং প্রশ্নাতীত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
অন্যথায় চরিত্রগত স্খলন, নারী-সংক্রান্ত কেলেঙ্কারি, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, স্বজনপ্রীতি, গোষ্ঠীপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও আঞ্চলিকতার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যাধি সংগঠনের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং জনগণের আস্থা বিনষ্ট হবে।
অতএব সময় থাকতেই আত্মসমালোচনা, আত্মসংযম ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে নিজেদের সংশোধন করা অপরিহার্য। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সত্য উপলব্ধির তাওফিক, প্রজ্ঞাসম্পন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং আমানতের হক যথাযথভাবে আদায় করার শক্তি দান করুন। আমীন।