16/05/2024
সিদ্ধান্ত আপনার...
একটা আম গাছ থেকে পাড়ার পরে, সেটাকে নিয়ে যাওয়া হলো আড়তে। ফ্যানের বাতাসে শুকানো হলো কষ, মিশিয়ে দেওয়া হলো ক্যামিকেল। ব্যবহার করা হলো কার্বাইড, ইথোফেন। অপরিপক্ব আম হয়ে গেলো স্বাদু আম। আড়তে একদিন, কখনো দুইতিন রেখে পাঠানো হয় সারাদেশের বড় বড় আড়তে। দালালদের কাছে আম পড়ে থাকে আরও একদিন। কখনো বিক্রি হয়ে যায় দিনেদিনেই। খুচরা বিক্রেতার কাছে পৌঁছাতে পৌঁছাতে কখনো গাছ থেকে পাড়ার তিন-চার দিন পেরিয়ে যায়, কখনো আরও বেশি। এরপর লোকাল বাজারে খুচরা দামে বিক্রি হয় একই আম, অন্তত সপ্তাহ জুড়ে। ধীরেধীরে আমের খোসা কালো হয়ে যায়, ফুটা হয়ে যায়। কখনো ফলের দোকানে গেলে কোনো ছোট্ট টুকরিতে এমন আম রাখা দেখতেও পারেন। শুধু আমের ক্ষেত্রেই এমন, না। মোটামুটি সব ফলেরই এই হালত।
এজন্য বাজারের এসব ফলমূল কিনতে হলে, বাসায় এনে খাওয়ার কমপক্ষে ত্রিশ মিনিট আগে পানিতে ভিজিয়ে রাখলে বিষের প্রতিক্রিয়া শরীরের জন্য অনেক অনেক সহনীয় পর্যায়ে চলে আসে।
এখন কথা হলো, আঙুর আপেল মালটা কমলাসহ যেসব ফল বাহির থেকে আমদানি হয়, সেগুলো লোকাল বাজার থেকে ক্রয় করা ছাড়া অন্য উপায় সাধারণত থাকে না। কিন্তু আম তো আপনার দেশের সম্পদ। আপনার দেশ আম রপ্তানি করে বাহিরের অনেক দেশে।
একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে কেন আপনি তাহলে টাকা দিয়ে বিষ কিনে খাবেন? সুযোগ তো আপনার হাতের নাগালে।
আম বাজার টীম ফজরের পরে বাগানে যায়, আম নামায় গাছ থেকে। ফ্যানের বাতাসে কষ শুকিয়ে এগুলো বাগানে বসেই ক্যারেট করে এবং সেদিনই বিকেল বা সন্ধ্যায় বুকিং দিয়ে আসে কুরিয়ারে। পরেরদিনই আমটা পৌঁছে যায় সারাদেশে থাকা গ্রাহকদের কুরিয়ার ঠিকানায়।
গাছ থেকে আম নামানোর একদিন, কখনো কদাচিত দুইদিনের ব্যবধানে আম থাকে আপনার দস্তরখানে। নির্ভেজাল আম। পরিপক্ব আম। বেশকিছু দিন রেখে খেতে পারছেন। ফ্রিজে রাখলে অতিরিক্ত আরও কিছুদিন রেখে খেতে পারছেন। এটাতে তো আপনার শরীরের জন্য ন্যূনতমও ঝুঁকি নেই, ক্ষতি নেই শিশুদের জন্য।
সিদ্ধান্ত আপনার, পরিবারের মুখে কী তোলে দেবেন.