28/07/2026
একবার 'সুবহানাল্লাহ' বলার আকুল আকাঙ্ক্ষা যেন একটি মণিমানিক্যে পরিণত হয়, তার সান্ত্বনা ও সৌন্দর্য অমর হয়ে রয়ে যায় সেই কথায়। এ এক অভিজ্ঞতা, যা জীবনের গভীরে অনুধাবন করায়। এক পুণ্যবান বুযুর্গ তার স্বপ্নের মধ্য দিয়ে এমন এক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন যা তাঁর চেতনার জগৎকে নাড়া দেয়। সেই স্বপ্নের ভেতরে তিনি কবরের নীচে গৃহীত এক আত্মার সাক্ষাৎ পান। মৃত সত্তার কন্ঠে ফুটে ওঠে জীবনের অতীত স্মৃতি, যা আসে এক আর্ত এবং জমাটবদ্ধ অনুভূতির সুরমূর্ছনায়। "হে পৃথিবীর মানুষ!" সে যেন কাঁপানো হৃদয় থেকে বলে উঠে, "তোমাদের কাছে এখনো সেই সম্ভাবনা অবারিত, একটি সুযোগ যা আমরা যারা ইতিমধ্যে জীবন থেকে বিদায় নিয়েছি, অত্যন্ত তৃষ্ণা নিয়ে আশা করতাম, কিন্তু আর ফিরে পাওয়া সম্ভব হয়নি। তোমরা যারা জীবিত, এই আমানত উপলব্ধি করতে পারো না। আল্লাহর নামে বলছি! যদি আমার আমলনামায় মাত্র একবার 'সুবহানাল্লাহ' বা 'আলহামদুলিল্লাহ' বলার সওয়াব যোগ হত, তবে তা আমার আত্মার কাছে পৃথিবীর সকল ধনরত্ন ও সম্পদ থেকে অনেক মূল্যবান হত।"
তার কণ্ঠে আত্মতৃষ্ণার প্রতিধ্বনি শোনা যায়, যখন সে প্রার্থনা করে, "তোমরা এখন সুস্থ চরিতার্থ, তোমাদের শরীর সচল, তোমাদের কণ্ঠ আল্লাহর ইবাদতের জন্য প্রস্তুত। এই সুযোগ গ্রহণ করো, এই মুহূর্ত অনেক মূল্যবান। মৃত্যুর পর, মাত্র একবারের সিজদার জন্য হাজার বছর প্লাবিত হতে হবে কান্নার তরঙ্গে, কিন্তু সেই সিজদার সুযোগ আর ফিরে আসবে না।"
এই কথাগুলো শোনার মাধ্যমে হৃদয়ে নতুন করে আল্লাহকে স্মরণ করার এবং তাঁর প্রশংসায় সামান্য উচ্চারণ করার আহ্বান আসব। জীবনের ক্ষণস্থায়ী সময় এবং তার অপারিত সম্ভাবনা উপলব্ধি করে, এই মূল্যবান সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য এ যেন আমাদের গভীর মনোযোগে ধরে রাখে। প্রতিটি পদক্ষেপ যেন আমাদের চালিত করে সেই পথে যা আত্মার মুক্তি ও চিরস্থায়ী শান্তির দিকে নিয়ে যায়।