26/01/2026
চাঁদা মাছের শুটকি। বাংলাদেশে এই মাছটি অত্যন্ত জনপ্রিয়, বিশেষ করে ভর্তা বা চচ্চড়ি হিসেবে এটি বেশ মুখরোচক।
চাঁদা শুটকির গুনাগুন
চাঁদা মাছ ছোট হলেও এর পুষ্টিগুণ অনেক। শুটকি করার ফলে এর পুষ্টি উপাদানগুলো আরও ঘনীভূত হয়:
• ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস: ছোট মাছের শুটকিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে, যা হাড় ও দাঁত মজবুত করতে সাহায্য করে।
• প্রোটিন: শরীরের কোষ গঠন এবং টিস্যু মেরামতের জন্য এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে উচ্চমানের প্রোটিন রয়েছে।
• আয়রন ও খনিজ: রক্তশূন্যতা দূর করতে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এটি বেশ কার্যকর।
• কম চর্বি: যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান কিন্তু প্রোটিন দরকার, তাদের জন্য এটি ভালো উৎস।
চাঁদা শুটকি তৈরির প্রক্রিয়া
সাধারণত ঐতিহ্যবাহী উপায়ে রোদে শুকিয়ে এই শুটকি তৈরি করা হয়। প্রক্রিয়াটি নিচে দেওয়া হলো:
১. মাছ পরিষ্কার করা: প্রথমে টাটকা চাঁদা মাছের আঁশ ছাড়িয়ে ভেতরের ময়লা পরিষ্কার করে নিতে হয়। তবে এই ছোট মাছ অনেক সময় আস্তও রাখা হয়।
২. ধোয়া: পরিষ্কার পানিতে মাছগুলো খুব ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে যাতে কোনো কাদা বা ময়লা না থাকে।
৩. লবণ মাখানো (ঐচ্ছিক): অনেক সময় মাছ সংরক্ষণের সুবিধার্থে সামান্য লবণ মাখানো হয়, তবে রোদে সরাসরি শুকিয়েও এটি করা যায়।
৪. রোদে শুকানো: বাঁশের মাচা বা চট বিছিয়ে কড়া রোদে মাছগুলো মেলে দিতে হয়। মাঝেমধ্যে উল্টে দিতে হয় যাতে সবপাশ সমানভাবে শুকায়।
৫. সংরক্ষণ: মাছগুলো যখন একদম মচমচে হয়ে যায়, তখন সেগুলো নামিয়ে বায়ুরোধী পাত্রে রাখতে হয়। এভাবে রাখলে অনেকদিন ভালো থাকে।
রান্নার টিপস
রান্নার আগে শুটকিগুলো হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে রেখে ভালো করে ধুয়ে নেবেন। এতে মাছের গায়ে লেগে থাকা ধুলোবালি পরিষ্কার হয়ে যায় এবং শুটকি নরম হয়।