18/09/2026
ই/রা/ন-ই/স/ রা/ই/ল বিষয়ে এবং বিভিন্ন সময়ে মুসলিমদের পক্ষে আরব দেশগুলোর ভূমিকা কী?
|| ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী ||
আমি খুব গভীরভাবে লক্ষ্য করেছি যে, মূলত যারা শী’য়া, প/ শ্চি/ মা/ দের দা/ লা/ল,
অবিশ্বাসী, সং শ য় বাদী, ইসলামের প্রতি যাদের আ/ক্রো/ শ রয়েছে, তারাই বিভিন্ন কথায় বিভিন্নভাবে আরবের সমালোচনা করে থাকে। মধ্যপ্রাচ্যে আরব রাষ্ট্রগুলোর মূল হচ্ছে সৌদি আরাবিয়া। মক্কা মুকাররামাকে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, “উম্মুল কুরা”। সৌদি আরবের রাজধানী হচ্ছে মক্কা। মক্কা কেন 'মক্কা' হয়েছে এবং মক্কার এত দাম কেন?
আল্লাহর আখেরী নাবী নূর নাবীজি মুহাম্মাদ ﷺ দেড় হাজার বছর আগে আগমন করেছেন মক্কায়। এজন্য মক্কা হলো সারা পৃথিবীর রাজধানী। আল্লাহ তা'আলা আল্লাহর আখেরী নাবী মুহাম্মাদ ﷺ মক্কা থেকে হিজবুত করে মাদিনাতুল মনোওয়ারাতে যাওয়ার কারণে মাদিনাতুল মনোওয়ারাকে ঈমানের রাজধানী বানিয়ে দিয়েছেন। এই মক্কাতুল মুকাররামা আর মাদিনাতুল মনোওয়ারার কারণে মামলাকাতুল আরাবিয়া বা সৌদি আরাবিয়ার প্রতি আমাদের ভালোবাসা আছে। আরব এবং আরববাসীদের যারা বিনা কারণে সমালোচনা করে, তারা জা/লে/ম এবং মুনা/ফি/ক ছাড়া কিছু হতে পারে না।
এখন আসেন সৌদি আরাবিয়ার শাসকদের কথা।
সৌদি আরাবিয়ার যারা শাসক আছে, ব্যক্তিগতভাবে শাসকদের যদি ফিসক ও ফুজুর থাকে, তখন তাদের আমরা সমালোচনা করবো। যেমন: বিন সালমানকে নিয়ে অনেক সমালোচনা রয়েছে। তার অনেক ভুল রয়েছে। এজন্য গঠন মূলক সমালোচনা হতেই পারে। কিন্তু আমি মনে করি, শাহ সৌদের বংশধররা সৌদি আরবের খেদমত গ্রহণ করার পর থেকে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে।
১৯১৭ সালে যখন খেলাফতে উসমানিয়ার অবসান ঘটলো। ১৯২২ সালে grand national assembly করে কামাল পাশা আতাতুর্ক ঘোষণা করল, আর কোন খেলাফতে ইসলামিয়া বা শরীয়াহ শাসন থাকবে না। যখন সৌদি আরাবিয়ার দায়িত্ব সৌদের বংশধররা নিল, তারা কিন্তু সংবিধানের শুরুতেই লিখে দিয়েছে যে, আমাদের আইনের উৎস হল আল-কুরআন।
তাহলে বোঝা যায়, তারা সৌদি আরাবিয়া বা আরবটাকে কুরআন ও সুন্নাহর বিধান দিয়ে অর্থাৎ শরীয়াহ আইনের বিধান দিয়ে চালানোর চেষ্টা করছে। তাঁরা খেলাফতের নাম নেয় নি। তাঁর কারণ হলো-
যেকোনো ভূখণ্ডে ইসলামী রাষ্ট্র ৪ টি নামে হতে পারে।
যথা:
•খেলাফত।
•ইমামতে উজমা।
•রিয়াসাতে ইসলামিয়া।
•ইমারতে ইসলামিয়া।
এই চারটি নামের যেকোনো একটি নামে যেকোনো ভূখণ্ডে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম হতে পারে। কুরআন ও সুন্নাহর আইনে শরীয়াহ রাষ্ট্র হতে পারে। হিকমাতান তারা 'খেলাফত' নামটাকে ব্যবহার করে নি। শরীয়াহ আইনেই সৌদি আরব পরিচালিত। এটা তারা লিখে এসেছেন এবং সেটা তারা প্রচার করে। যেমন: আফগানিস্তানে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কিন্তু তারা ইসলামী রাষ্ট্রকে খেলাফত বলছে না; তারা ইমারতে ইসলামিয়া বলছে প/ শ্চি/ মা/ দের কুনজর থেকে বাঁচার জন্য।
সৌদি আরাবিয়ার পররাষ্ট্রনীতিটাও অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে। আমাদের দেশে যারা চায়ের কাপে ঝড় তোলে যে, ফিলিস্তিনি মুসলমানদের ওপর এত অত্যাচার-নির্যাতন হচ্ছে সৌদি আরব কিছু করে না কেন?
এখন যদি সৌদি আরবিয়া, কাতার, আরব আমিরাতসহ সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ই/জ /রা/ইলে অ্যাটাক করে, তখন ই/জ /রা/ই/লের পক্ষ থেকে সবগুলো অমুসলিম রাষ্ট্র এক হয়ে যাবে। তখন কি পৃথিবীতে থার্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ার অনিবার্য হয়ে যাবে না? তাই হুটহাট করে কিছু করে বিশ্বকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া কোন কাজের কাজ না। বুদ্ধিভিত্তিকভাবে জা/য়ো/নি/স্ট/দের এই অত্যাচার থেকে middle east কে রক্ষা করার জন্য তারা কাজ করছে। তাদেরকে আবার ইরানকেও দেখতে হচ্ছে। তারা যেভাবে রোল প্লে করছে; সৌদি আরবের শাসকগণ, কাতারের শাসকগণ, এটাকে আমি মনে করি, বর্তমান সময়ের জন্য বেস্ট পলিসি। সেই পলিসিটি হলো- সংঘাতে না যেয়ে, বুদ্ধিভিত্তিক লড়াইয়ের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থানকে সুসংহত রাখা। পৃথিবীর সব অর্থনীতিবিদদের মতে, পৃথিবীর সবচেয়ে টেকসই ও হুমকিমুক্ত অর্থনীতি হচ্ছে সৌদি আরবের অর্থনীতি। সৌদি আরব অনেক কাজ করায়, কিন্তু নিজেদের নামটা তারা গোপন রাখে। 'আল জাজিরা' নিউজ চ্যানেলটা হওয়ার কথা ছিল সৌদি আরাবিয়াতে। এটাকে তারা কাতারে করেছে। মুসলিম বিশ্বের পক্ষে এখন 'আল জাজিরা' রিপোর্ট করছে। তা লে বা নকে কাতারের মাধ্যমে প্রায় ১৯ বছরে প্রচুর পরিমাণে অর্থনৈতিক সহযোগিতা করেছে সৌদি আরব। তারা আসলে নন অফিসিয়ালি ডিক্লারেশন দেন না, সেটাকে আমরা হিকমাহ্ বা প্রজ্ঞা বলেই মনে করি।