06/10/2026
সন্ধ্যেবেলা রাজধানীর বিজয় সরণি কিংবা কুড়িল ফ্লাইওভারের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বাইকচালক; চোখেমুখে হয়তো সারাদিনের ক্লান্তি ছাপিয়ে ঘরে ফেরার তীব্র তাড়া। অথচ পরমুহূর্তেই পেছনের এক বেপরোয়া বাসের নির্মম ধাক্কায় পিচঢালা রাজপথেই নিভে যায় সেই তাজা প্রাণ।
সায়দাবাদ-যাত্রাবাড়ী রুটে চাকার নিচে পিষ্ট হওয়া কোনো এক বাবার হাত থেকে ছিটকে পড়ে সন্তানের জন্য সযত্নে কেনা ফলের ব্যাগটি। বিমানবন্দর সড়কের ফুটপাতে বাসের রেষারেষিতে নিমেষেই ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় দুই শিক্ষার্থীর স্বপ্ন; পড়ে থাকে রক্তাক্ত আইডি কার্ড আর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বই-খাতা। আবার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে অসুস্থ স্বজনকে সুস্থ করে বাড়ি ফেরানোর পথেই নিয়ন্ত্রণ হারায় অ্যাম্বুলেন্স—এক নিমেষেই লাশ হয়ে ফেরে পুরো পরিবার। কিংবা কুয়াশাচ্ছন্ন দূরপাল্লার মহাসড়কে বিকল ট্রাকের পেছনে আছড়ে পড়ে একলহমায় স্তব্ধ হয়ে যায় একদল শ্রমিকের শেষ নিঃশ্বাস।
পিচঢালা পথে ঝরে যাওয়া প্রাণের পরিসংখ্যান
যাত্রী কল্যাণ সমিতি ও রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পরিসংখ্যান বলছে, কেবল গত ১ বছরেই এই ঘাতক পথ কেড়ে নিয়েছে ৮,০০০-এরও বেশি তাজা প্রাণ। প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫টি পরিবার সকালে যে মানুষটিকে হাসিমুখে বিদায় জানাচ্ছে, দিনশেষে তাদের ঘরে ফিরছে সেই প্রিয়জনেরই নিথর মরদেহ। প্রতিটি দুর্ঘটনার পেছনে হারিয়ে যাচ্ছে একেকটি পরিবার, সুন্দর সব স্বপ্ন; আর পিচঢালা রাজপথ নিঃশব্দে ভারী হয়ে উঠছে স্বজনহারা মানুষের বোবা কান্নায়।
মানবীয় সতর্কতার শেষ সীমানা
আপনি ট্রাফিক আইন শতভাগ মেনে চলতে পারেন, ফুটপাত ধরে অত্যন্ত সতর্ক হয়ে হাঁটতে পারেন; কিন্তু হঠাৎ পেছন থেকে ধেয়ে আসা ব্রেকফেল করা কোনো বেপরোয়া ট্রাক কিংবা উল্টো দিক থেকে ছুটে আসা ঘাতক বাসের সামনে আপনার সব ব্যক্তিগত সতর্কতা মুহূর্তে অসহায় হয়ে পড়ে। যেখানে জাগতিক সব শক্তি ও মানবীয় হিসাব-নিকাশ এসে থমকে দাঁড়ায়, সেখানে একজন মুমিনের একমাত্র আশ্রয়স্থল কে? ঠিক এই চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে প্রিয় নবীজি ﷺ আমাদের শিখিয়েছেন এক অদৃশ্য ও অটুট আসমানী সুরক্ষাকবচ।
আসমানি সুরক্ষা কবচ
ঘর থেকে বের হয়ে অনিশ্চিত এই পৃথিবীর পথে পা বাড়ানোর মুহূর্তে রাসুলুল্লাহ ﷺ উম্মাহকে এমন এক আত্মরক্ষার হাতিয়ার শিখিয়েছেন, যা পাঠ করলে স্বয়ং আরশের মালিক বান্দাকে তাঁর কুদরতি হেফাজতে নিয়ে নেন: