31/08/2026
সালেহ খারাপ মানুষ ছিল না। সে নামাজ পড়ত, মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করত এবং পরিশ্রম করত। কিন্তু তার একটি দুর্বলতা ধীরে ধীরে তার অন্তরে জায়গা করে নিয়েছিল—সে সবসময় অন্যের জীবনের দিকে তাকিয়ে নিজের জীবনকে ছোট মনে করত।
বাজারে কোনো ব্যবসায়ী নতুন ঘোড়া কিনলে সালেহ দীর্ঘশ্বাস ফেলত। কেউ সুন্দর বাড়ি বানালে বলত, “আহা! আমারও যদি এমন বাড়ি থাকত!” কেউ ভালো পোশাক পরলে নিজের পুরোনো জামার দিকে তাকিয়ে মন খারাপ করত। কেউ বড় দোকান খুললে মনে মনে ভাবত, “আল্লাহ তাকে কত দিয়েছেন! আর আমার ভাগ্যে শুধু এই ছোট দোকান!”
এমনকি তার প্রতিবেশী হাসান যখন নতুন একটি কাঠের দরজা লাগাল, সালেহ নিজের দরজার দিকে তাকিয়ে বলল, “আমার দরজাটাও কত পুরোনো!”
তার স্ত্রী একদিন বলল, “আল্লাহ আমাদের যা দিয়েছেন, তাতেও তো আমরা বেঁচে আছি।”
সালেহ বলল, “বেঁচে আছি ঠিকই। কিন্তু অন্যদের জীবন দেখো! কারও ঘরে ভালো খাবার, কারও ঘোড়া, কারও বড় ব্যবসা। আমাদের কী আছে?”
তার বৃদ্ধ মা পাশ থেকে বললেন, “বাবা, কখনো কখনো মানুষ যা নেই তার হিসাব করতে করতে যা আছে তার হিসাব ভুলে যায়।”
সালেহ বলল, “মা, আপনি বুঝবেন না। অভাবের কষ্ট আলাদা।”
মা আর কিছু বললেন না।
একদিন সকালে সালেহ বাজারে দোকান খুলে বসেছিল। পাশের দোকানে এক ধনী ব্যবসায়ী দূরদেশ থেকে আনা সুন্দর ফল সাজিয়ে রাখছিল। বড় বড় আঙুর, মিষ্টি ডালিম, খেজুর ও নানা রকম ফল দেখে মানুষের ভিড় জমে গেল।
সালেহ তার দোকানের কয়েকটি সাধারণ রুটির দিকে তাকাল। তার মনে হলো, “আমার দোকানে এসব থাকলে আমিও বড় ব্যবসায়ী হতে পারতাম।”
ঠিক তখন বাহলুল (রহ.) বাজার দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি সালেহর মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারলেন, তার মন ভালো নেই।
বাহলুল (রহ.) কাছে এসে বললেন, “কী হয়েছে?” সালেহ বলল, “কিছু না।” “তোমার মুখ বলছে কিছু হয়েছে।”
সালেহ একটু বিরক্ত হয়ে বলল, “আমি শুধু নিজের জীবন নিয়ে ভাবছি।”
বাহলুল (রহ.) বললেন, “নিজের জীবন নিয়ে ভাবা ভালো। কিন্তু কীভাবে ভাবছ ?”
সালেহ বলল, “আমি ভাবছি, আল্লাহ অন্যদের এত দিয়েছেন, আমাকে এত কম কেন দিয়েছেন ?”
বাহলুল (রহ.) কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন।
তারপর বললেন, “তুমি কি নিশ্চিত যে তোমাকে কম দেওয়া হয়েছে?”
সালেহ বলল, “আমার চোখের সামনে তো দেখছি!”
বাহলুল (রহ.) বললেন, “তুমি অন্যের হাতে যা দেখছ, তা দেখছ। কিন্তু নিজের হাতে যা আছে, তার কতটুকু দেখছ ?”
সালেহ উত্তর দিল না।
বাহলুল (রহ.) বললেন, “আজ তুমি আমার সঙ্গে একটি জায়গায় যাবে ?”
সালেহ বলল, “কোথায় ?”
“চলো, দেখবে।”
বাহলুল (রহ.) তাকে নিয়ে বাজারের অন্য প্রান্তে গেলেন। সেখানে একটি ছোট ঘরের সামনে একজন অসুস্থ বৃদ্ধ বসে ছিলেন। তার পাশে একটি শিশু। ঘরে কোনো খাবার ছিল না।
বাহলুল (রহ.) সালেহকে বললেন, “এই মানুষটির কাছে আজকের খাবার আছে কি ?”
সালেহ মাথা নেড়ে বলল, “মনে হয় নেই।”
বাহলুল (রহ.) বললেন, “তোমার দোকানে আজ কত রুটি আছে ?”
সালেহ বলল, “অনেক নয়। প্রায় ত্রিশটা।”
“তুমি কি আজ অন্তত কয়েকটি রুটি এই মানুষটির পরিবারকে দিতে পারবে ?”
সালেহ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল।
তারপর বলল, “পারব।”
সে নিজের দোকানে ফিরে কয়েকটি রুটি নিয়ে এল।
বৃদ্ধ রুটিগুলো হাতে নিয়ে এমনভাবে তাকালেন, যেন তিনি কোনো মূল্যবান সম্পদ পেয়েছেন।
তিনি বললেন, “আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দিন। আমার নাতিটা সকাল থেকে কিছু খায়নি।”
শিশুটি রুটির দিকে তাকিয়ে হাসল।
সালেহের বুকের ভেতর কেমন যেন হয়ে গেল।
সে নিজের দোকানের দিকে তাকাল।
যে রুটিগুলোকে কিছুক্ষণ আগেও তার কাছে তুচ্ছ মনে হচ্ছিল, সেই রুটিই কারও কাছে আজকের সবচেয়ে বড় নিয়ামত।
বাহলুল (রহ.) বললেন, “দেখলে ?”
সালেহ বলল, “কী?”
“তুমি যে রুটিকে ছোট মনে করছিলে, কারও কাছে সেটিই ছিল আজকের সবচেয়ে বড় আশা।”
সালেহ মাথা নিচু করল।
কিন্তু বাহলুল (রহ.) সেদিন আর বেশি কিছু বললেন না।
পরদিন সকালে সালেহ আবার বাজারে এল।
আজও তার পাশের দোকানে ধনী ব্যবসায়ী ফল সাজিয়ে বসেছে। সালেহর চোখ আবার সেই ফলের দিকে গেল।
তার মনে হলো, “আমি যদি এমন ব্যবসা করতে পারতাম!”
কিন্তু হঠাৎ গতকালের বৃদ্ধের কথা মনে পড়ল।
সে নিজের দোকানের রুটিগুলোর দিকে তাকাল।
তারপর মনে মনে বলল, “আল্লাহ, আপনি আমাকে যা দিয়েছেন, আমি কি কখনো তার জন্য শুকরিয়া আদায় করেছি ?”
সেদিন দুপুরে এক দরিদ্র মহিলা তার দোকানে এলেন।
তিনি বললেন, “ভাই, দুইটা রুটি দেবেন ? আমার কাছে পুরো টাকা নেই।”
আগে হলে সালেহ হয়তো বলত, “টাকা নেই তো রুটি কীভাবে দেব?”
কিন্তু আজ সে বলল, “নিন।”
মহিলা বললেন, “কিন্তু টাকা কম।”
সালেহ বলল, “যতটুকু আছে দিন।”
মহিলা টাকা দিলেন।
সালেহ দেখল, টাকাটা খুবই সামান্য।
কিন্তু সে কিছু বলল না।
মহিলা চলে যাওয়ার সময় বললেন, “আমার ছেলে অসুস্থ। ওর জন্য রুটি নিয়ে যাচ্ছি।”
সালেহ তার দিকে তাকিয়ে রইল।
তার মনে হলো, “আজও আমার রুটি কারও জন্য কত মূল্যবান।”
সেদিন রাতে বাড়ি ফিরে তার স্ত্রী বলল, “আজ তোমাকে অন্যরকম লাগছে।”
সালেহ বলল, “আমি আজ একটা জিনিস বুঝেছি।”
“কী ?”
“আমরা অনেক সময় নিয়ামতকে তার পরিমাণ দিয়ে বিচার করি, কিন্তু আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের মূল্য বোঝা যায় তার প্রয়োজনের সময়।”
তার স্ত্রী মৃদু হাসলেন।
কিন্তু সালেহর পরীক্ষা তখনও শেষ হয়নি।
কয়েকদিন পর বাজারে এক ধনী ব্যবসায়ী নতুন একটি বাড়ি কিনল। বাড়িটি এত সুন্দর ছিল যে সবাই দেখতে গেল।
সালেহও গেল।
বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তার পুরোনো অভ্যাস আবার ফিরে এল।
“আহা! আমার যদি এমন বাড়ি থাকত!”
সে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
ঠিক তখন বাহলুল (রহ.) তার পাশে এসে দাঁড়ালেন।
“আবার কী হারালে ?”
সালেহ চমকে উঠল।
“কিছু না।”
“তুমি তো কিছু হারানোর মতো মুখ করে দাঁড়িয়ে আছ।”
সালেহ বলল, “আমি শুধু ভাবছিলাম, ওই মানুষটির কত বড় বাড়ি!”
বাহলুল (রহ.) বললেন, “তুমি কি তার বাড়ির ভেতরের সবকিছু জানো ?”
“না।”
“তার রাতের ঘুম জানো ?”
“না।”
“তার পরিবারের অবস্থা জানো?”
“না।”
“তার হৃদয়ের শান্তি জানো?”
সালেহ চুপ হয়ে গেল।
বাহলুল (রহ.) বললেন, “তাহলে তুমি কী দেখলে?”
সালেহ বলল, “শুধু বাড়ি।”
“আর নিজের কী দেখলে?”
সালেহ কিছু বলল না।
বাহলুল (রহ.) বললেন, “মানুষ অন্যের জীবনের বাইরের অংশ দেখে নিজের জীবনের ভেতরের অংশের সঙ্গে তুলনা করে। এ কারণেই সে কখনো সন্তুষ্ট হতে পারে না।”
সালেহ কথাটি মনে গেঁথে নিল।
সেদিন রাতে সে নিজের ঘরে ফিরে অনেকক্ষণ পরিবারের দিকে তাকিয়ে থাকল।
তার ছেলে ঘুমিয়ে আছে।
তার স্ত্রী পাশে বসে কাপড় সেলাই করছেন।
বৃদ্ধ মা কুরআন পড়ছেন।
ঘরের এক কোণে সামান্য খাবার রাখা।
সালেহ হঠাৎ অনুভব করল—“আমি এতদিন কী খুঁজছিলাম?”
তার নিজের একটি পরিবার আছে।
তার মা জীবিত।
তার স্ত্রী তার পাশে।
তার সন্তান সুস্থ।
তার দোকান আছে।
প্রতিদিন সে হালালভাবে উপার্জন করার সুযোগ পাচ্ছে।
তার শরীর কাজ করার মতো শক্তিশালী।
তার মাথার ওপর ছাদ আছে।
তার ঘরে খাবার আছে।
তাহলে সে এতদিন শুধু কী নেই তার হিসাব করছিল কেন?
সালেহর চোখে পানি চলে এল।
সে মায়ের কাছে গিয়ে বলল, “মা।”
মা বললেন, “কী হয়েছে?”
“আপনি সেদিন ঠিকই বলেছিলেন।”
“কোন কথা?”
“আমি যা নেই তার হিসাব করতে করতে যা আছে তার হিসাব ভুলে গিয়েছিলাম।”
মা মৃদু হেসে বললেন, “বাবা, মানুষের মন এমনই। সে দূরের পাহাড় দেখে, কিন্তু নিজের পায়ের নিচের মাটির মূল্য ভুলে যায়।”
সালেহ মায়ের হাত ধরে বলল, “আমার জন্য দোয়া করবেন।”
“কী দোয়া?”
“যেন আল্লাহ আমাকে তাঁর দেওয়া নিয়ামত চিনতে শেখান।”
পরদিন থেকে সালেহ একটি নতুন অভ্যাস শুরু করল।
প্রতিদিন সকালে দোকান খোলার আগে সে কয়েক মুহূর্ত বসে নিজের জীবনের নিয়ামতগুলো মনে করত।
সে বলত, “আলহামদুলিল্লাহ—আজ আমি জীবিত।”
“আলহামদুলিল্লাহ—আজ আমার শরীর কাজ করছে।”
“আলহামদুলিল্লাহ—আমার পরিবার আছে।”
“আলহামদুলিল্লাহ—আমি হালাল উপার্জনের চেষ্টা করতে পারছি।”
“আলহামদুলিল্লাহ—আমার কাছে আজকের খাবার আছে।”
ধীরে ধীরে তার মন বদলে যেতে লাগল।
বাজারে কেউ নতুন কাপড় কিনলে সে আর নিজের পুরোনো কাপড়ের জন্য আফসোস করত না।
কেউ নতুন বাড়ি বানালে সে বলত, “আল্লাহ তাকে বরকত দিন।”
কেউ বড় ব্যবসা করলে বলত, “আল্লাহ তার রিজিকে বরকত দিন।”
কেউ ভালো খাবার খেলে তার মনে হিংসা আসত না।
বরং সে নিজের দিকে তাকিয়ে বলত, “আল্লাহ আমাকে যা দিয়েছেন, তার শুকরিয়া আমি কতটুকু করেছি?”
একদিন তার পুরোনো বন্ধু তাকে বলল, “সালেহ, তোমার মধ্যে কী হয়েছে? আগে তুমি অন্যের সম্পদ দেখে মন খারাপ করতে। এখন অন্যের ভালো হলে তুমি খুশি হও।”
সালেহ হাসল।
“আগে আমি ভাবতাম, অন্যের কাছে বেশি থাকা মানে আমার কাছে কম থাকা। এখন বুঝেছি, আল্লাহর ভাণ্ডার সীমাহীন।”
বন্ধু বলল, “এই শিক্ষা কোথায় পেলে?”
সালেহ বলল, “একদিন আমি নিজের রুটিকে ছোট মনে করেছিলাম। বাহলুল আমাকে এমন একটি পরিবার দেখিয়েছিলেন, যাদের কাছে সেই রুটিই ছিল দিনের সবচেয়ে বড় নিয়ামত।”
কিছুদিন পর সালেহর ব্যবসায় সত্যিই উন্নতি হলো।
একজন বড় ব্যবসায়ী তার দোকানের রুটি পছন্দ করে নিয়মিত অর্ডার দিতে শুরু করল। ধীরে ধীরে সালেহর আয় বেড়ে গেল।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এবার তার আচরণ বদলাল না।
আগে যে মানুষটি সম্পদ না থাকার কারণে কষ্ট পেত, এখন সম্পদ বাড়লেও সে অহংকার করল না।
একদিন তার স্ত্রী বললেন, “আল্লাহ তোমাকে আগের চেয়ে অনেক বেশি দিয়েছেন।”
সালেহ বলল, “হ্যাঁ। কিন্তু আমি ভয় পাই।”
“কিসের ভয়?”
“আগে আমি কম পেয়ে শুকরিয়া করতাম না। এখন বেশি পেয়ে যেন অকৃতজ্ঞ না হয়ে যাই।”
তারপর সে নিজের আয়ের একটি অংশ দরিদ্রদের জন্য আলাদা করতে শুরু করল।
সে বলত, “আমি যখন অভাবী ছিলাম, তখন বুঝিনি আমার সামান্য রুটিও কারও জন্য কত বড় নিয়ামত হতে পারে। এখন আল্লাহ আমাকে একটু বেশি দিয়েছেন, তাই আমি চাই অন্য কেউ যেন অন্তত একবেলার খাবারের জন্য কষ্ট না পায়।”
একদিন বাহলুল (রহ.) তার দোকানের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন।
সালেহ তাঁকে দেখে এগিয়ে এল।
“বাহলুল, আপনি কি আমাকে মনে রেখেছেন ?”
বাহলুল (রহ.) মৃদু হেসে বললেন, “যে নিজের নিয়ামত মনে রাখতে শেখে, তাকে ভুলে যাওয়া কঠিন।”
সালেহ বলল, “আপনি আমাকে সেদিন কী শিখিয়েছিলেন জানেন?”
“কী?”
“অভাব শুধু জিনিসের কমতি নয়। কখনো কখনো মানুষের সবচেয়ে বড় অভাব হলো—সে যা পেয়েছে, তার মূল্য বুঝতে না পারা।”
বাহলুল (রহ.) বললেন, “এবার তুমি কথাটির অর্থ বুঝেছ।”
সালেহ বলল, “আমি আরও একটি জিনিস বুঝেছি। অন্যের নিয়ামত দেখে হিংসা করলে আমার নিজের নিয়ামত কমে যায় না, শুধু আমার শান্তিটা কমে যায়।”
বাহলুল (রহ.) বললেন, “আর শুকরিয়া?”
সালেহ বলল, “শুকরিয়া মানুষকে তার প্রাপ্তির সৌন্দর্য দেখতে শেখায়।”
বাহলুল (রহ.) মৃদু হাসলেন।
সালেহ তার দোকানের দিকে ফিরে গেল।
সেদিন দোকানে তার সামনে ছিল সাধারণ কিছু রুটি।
কিন্তু তার চোখে সেগুলো আর সাধারণ ছিল না।
সে জানত—কোনো ক্ষুধার্ত শিশুর কাছে একটি রুটি আনন্দ হতে পারে, কোনো শ্রমিকের কাছে দিনের শক্তি হতে পারে, কোনো অসুস্থ বৃদ্ধের কাছে বেঁচে থাকার ভরসা হতে পারে।
তখন সে বুঝেছিল, **নিয়ামতের মূল্য শুধু তার দাম দিয়ে নির্ধারিত হয় না; প্রয়োজনের সময় তার মূল্য বহুগুণ বেড়ে যায়।**
আমাদের জীবনেও আমরা প্রায়ই সালেহর মতো হয়ে যাই। অন্যের বাড়ি দেখি, নিজের বাড়ি ছোট মনে হয়। অন্যের পোশাক দেখি, নিজের পোশাক পুরোনো মনে হয়। অন্যের ব্যবসা দেখি, নিজের আয় কম মনে হয়। অন্যের সুখের মুহূর্ত দেখি, নিজের জীবনের শান্তিগুলো ভুলে যাই।
আমরা ভুলে যাই—যে মানুষটির গাড়ি দেখে আমরা হিংসা করছি, সে হয়তো আমাদের মতো সুস্থ পরিবারের জন্য দোয়া করছে। যে মানুষের বড় বাড়ি দেখে আমরা আফসোস করছি, সে হয়তো নিজের ঘরের শান্তির জন্য কাঁদছে। যে মানুষটির সম্পদ দেখে আমরা নিজেকে গরিব মনে করছি, সে হয়তো এমন কোনো নিয়ামত থেকে বঞ্চিত, যেটিকে আমরা প্রতিদিন স্বাভাবিক বলে ধরে নিচ্ছি।
তাই অন্যের জীবনের সঙ্গে নিজের জীবন তুলনা করার আগে নিজের নিয়ামতের তালিকাটি একবার দেখে নেওয়া উচিত।
**আজ আমরা কি সুস্থ?—এটি নিয়ামত।
পরিবার আছে?—এটি নিয়ামত।
হালালভাবে উপার্জনের সুযোগ আছে?—এটি নিয়ামত।
খাবার আছে?—এটি নিয়ামত।
মাথার ওপর ছাদ আছে?—এটি নিয়ামত।
ইবাদত করার সুযোগ আছে?—এটি আরও বড় নিয়ামত।**
সবশেষে মনে রাখা দরকার—**শুকরিয়া মানে শুধু মুখে “আলহামদুলিল্লাহ” বলা নয়; আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতকে তাঁর সন্তুষ্টির পথে ব্যবহার করাও শুকরিয়ার অংশ।**
অন্যের প্রাপ্তি দেখে নিজের জীবনকে ছোট করো না। বরং নিজের জীবনে আল্লাহ কত কিছু দিয়েছেন, তার হিসাব করো। কারণ অনেক সময় আমরা যে জিনিসগুলোকে “সাধারণ” মনে করি, সেগুলো হারিয়ে গেলে বুঝতে পারি—সেগুলোই ছিল আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় নিয়ামত।
সংগৃহীত