14/05/2026
মানবিকতা আর পেশাদারিত্ব দুটো সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়, দায়িত্ববোধ তো আরই। Sreyasir Rannaghor যখন শুরু করেছিলাম আমার বয়স ২৪ বছর। খুব বেশিদিনের অভিজ্ঞতা আমার নেই, কিন্তু লকডাউন এর সময় ভেঙে পড়া আমার মতই এক দিদি জুটে গিয়েছিল। দুজনে মিলে চার হাতে সব কাজ সামলেছি। তারপর ২০২৬ শে দাঁড়িয়ে এখন আমি ৫ টা সংসার টানছি। "পেশাদারিত্ব" এই কঠিন শব্দটা সেদিন বুঝেছিলাম, যেদিন সকালে আমার পরিবারের দুইজন সদস্য দুর্ঘটনায় জাস্ট দুম করে নেই হয়ে গিয়েছিলেন। ঠিক তার দুই সপ্তাহ আগে, এক কন্যাদায়গ্রস্ত বাবা আমার হাতে ৩০ হাজার টাকার অগ্রিম চেক ধরিয়েছেন। বাজার হাট সমস্ত করা হয়ে গেছে। আমাদের কিচেন গার্ডেন সেজে উঠেছে, চার হাত এক হবে। কি স্পর্ধা আমার মেয়ের বাবাকে "না " করে দিই? ডেডবডি যখন কাটাপুকুরে পৌঁছে গেছে, আমি সুন্দর করে মুগের ডালে মাছের মাথা মেশাচ্ছি, সাথে হয়ত মিশছে আমার চোখের জল। সেদিন ডালটা নাকি সবাই চেয়ে খেয়েছিলেন। হ্যাঁ আমি শোকপালনের সুযোগ পাইনি, বরযাত্রীর আপ্যায়নে বিন্দুমাত্র ত্রুটি হয়নি। দিনশেষে মেয়ের বাবা মা আমাদের পেজে দুই হাত তুলে আশীর্বাদ করেছেন, সাথে আমাকেও।
দায়িত্ববোধ শব্দটা বুঝলাম যেদিন সবাই বলেছিল, আমার দুই বছরের বাচ্ছাটা হয়ত আর বাঁচবে না। অক্সিজেন সিলিন্ডার গাড়িতে তুলে নিয়ে যখন হসপিটালের পথে আমি, সেদিনও বিরিয়ানির রিভিউ ছিল দেখার মত। মনে পড়ে, এক দিদিমনিকে লিখেছিলাম whatsapp এ " আপনি গাড়ির ড্রাইভার এর নম্বর চট করে লিখে নিন। আমি নাও বাঁচতে পারি। খাবার ঠিক সময় পাবেন। বাকি যা কিছু আমার বাবার হাতে দেবেন। "উনি হতভম্ব, কারণ উনি জানেন না তখন আমি কি পরিস্থিতির শিকার। তাতেও ওনার স্পেশাল ডে নষ্ট করার কোনো অধিকার আমার নেই। আমি বেঁচে থাকি, নাইবা থাকি, আমাদের রান্নাঘর যেমন চলছে ঠিক তেমনই চলবে। মেয়েগুলোও আমার দেখাদেখি আমার মত পাগল হয়ে যাচ্ছে। সন্ধ্যাবেলা খবর এলো গুড্ডি দিদি হসপিটালে ভর্তি,পেটে পাথর ধরা পড়েছে,যন্ত্রনা উঠেছে। আমরা চিন্তায়,পরের দিনের এত্ত কাজের চাপ, তার থেকেও বেশি চিন্তা মেয়েটা কষ্ট পাচ্ছে। কিন্তু ভোরবেলা কিচেনের দরজা খুলে দেখি আমি পৌঁছানোর আগেই সেই মেয়ে উপস্থিত! আমার চক্ষু স্থির! বলে " ম্যাম, অনেক বড়ো অর্ডার, না এলে হয় বলো? স্যালাইন খুলে ফেলে বন্ডে সই করে চলে এলাম, কাজ মিটুক, তাপ্পর হবেক্ষন গে অপরেশান, পরের হপ্তায় তিনটে ছুটি দেবে তো? " মনে হচ্ছিল গরম খুন্তি নিয়ে তাড়া করি। ভেবে দেখলাম আমার সাথে থাকতে থাকতে ওরাও হয়ত বুঝে গেছে কারুর স্পেশাল ডে, কারুর দু চোখে দেখে রাখা স্বপ্ন বোধহয় শুধু "রিফান্ড " করেই ভাঙা যায় না, 😇🙏
নিচে এক রত্নগর্ভা মায়ের ফিডব্যাক। মেয়ের সফলতার আনন্দের মেনুতে :
👩🍳গন্ধরাজ পাতুরি👩🍳ভেটকির চপ 👩🍳কাঁচালঙ্কা আমসত্ত্ব পোলাও 👩🍳চিতল মুইঠার মালাইকারি 👩🍳মটন ডাকবাংলা 👩🍳ডাবের পায়েস
যোগাযোগ : 089814 81899 📳🤳