21/09/2025
আজ বছরের প্রতীক্ষিত সেই মুহূর্ত—মহালয়া।
“আশ্বিনের শারদপ্রাতে,
ফুচকার বাটি বাঙালির হাতে।”
দুর্গাপুজোর কাউন্টডাউন আজ থেকেই শুরু। আর তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই বিস্তর কেনাকাটার ডেডলাইনও। কেনাকাটা হবে আর মহানগরী কলকাতার নাম উঠবে না তা কি হয়! গড়িয়াহাট, হাতিবাগান, নিউ মার্কেট—এই সময় শহরের বুকে একেবারে অন্য রূপে ধরা দেয়। কেনাকাটার ভিড়ের মাঝে স্ট্রিট ফুডের আনন্দ তো থাকবেই কারণ বাঙালিরা তাদের উৎসবের উদযাপন করে খাওয়া-দাওয়া দিয়েই, একেবারে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত টোটাল ফুড প্যাকেজ থাকে ঘরে ঘরে। তাই শারদ-প্রাতে না হলেও, শারদ-সন্ধ্যায় ফুচকার বাটি বাঙালি ধরবেই। আসলে মহালয়া হচ্ছে পুজোর খাওয়া-দাওয়ার স্টার্টিং পয়েন্ট।
কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত শপিং হাব হল গড়িয়াহাট। পুজোর শাড়ি, গয়না, জুতো—সবকিছুর সঙ্গে এখানে পাওয়া যায় বিখ্যাত ফুচকার নানা ভ্যারাইটি, ফিশ ব্যাটার ফ্রাই, চিকেন চিজ ফ্রাই-এর মতো লোভনীয় আইটেম। পাশাপাশি মটন রোল, ফিশ রোল, এগ রোল, কাবুল রোল—কলকাতার রোল কালচারের অন্যতম কেন্দ্রস্থল হল এই গড়িয়াহাট। কালো রঙের তাওয়ার ওপরে তেল দিয়ে কড়া করে ভাজা পরোটার ওপরে ডিমের প্রলেপ, তারপরেই বিভিন্ন মতামতের গুরুত্ব বজায় রেখে ফিলিং, এই তো জীবন কালিদা! আর বিশেষভাবে জনপ্রিয় মটন ঘুগনি—ঝাল মশলা মাখানো, টাটকা ধনেপাতা ছড়ানো, তেঁতুলের টক দেওয়া এই ঘুগনির স্বাদ যেন অমৃত।
এরপর চলুন হাতিবাগানের দিকে। উত্তর কলকাতার জুয়েলারি হাব, যেখানে মেয়েদের প্রিয় চাটের স্টল সবসময় জমজমাট—পাপড়ি চাট, বাদাম চাট, আলু চাটের সাথে রঙ বেরঙের সবজি দিয়ে সাজানো স্টলটা যেন ডিডিএলজের শাহরুখ খানের মতো দু’হাত বাড়িয়ে ডাকে। এখানের বিখ্যাত স্ট্রিট ফুডের মধ্যে রয়েছে ঢাকাই পরোটা, বিরিয়ানি, টিকিয়া, প্রন কাটলেট। এছাড়া মুগ ডালের চিলা, পনির স্যান্ডউইচ এবং বড়া পাও-এর মতো জনপ্রিয় খাবার তো আছেই। আর অবশ্যই দইটা খেয়ে দেখতেই হবে।
এদিকে ধর্মতলা–নিউ মার্কেটের দিকে আসা যাক। এখানে খেতে পারেন মুঘলাই পরোটা আর আলুর দম। তাছাড়া যারা ডায়েটে আছেন তাদের জন্য যে একেবারেই মুখ শুকনো তা নয়, আছে হরেক রকমের সরবত, লস্যি, ফ্রুট চাট আর বিখ্যাত সব কাবাব। তারপর বাটার টোস্ট আর গোলমরিচ দেওয়া চিকেন স্ট্যু খাওয়ার পরে আইকনিক ফুড কাঠি রোল নিউ মার্কেটে চেখে নিতেই হবে একবার। শেষে ডেজার্ট হিসেবে থাকছে কেক, পেস্ট্রি এবং প্লাম কেক—যা ১৯০২ সাল থেকে কলকাতার উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
শেষে বাড়ি ফেরার পথে যদি শ্রীরামপুরে একটু হোঁচট খান, তবে কেশর কুলফি ফালুদা খেয়ে যাবেন। শালপাতার প্লেটে কুচোনো কুলফির ওপরে ভারমিসেলি দিয়ে হালকা হাতে খেতে খেতে বাড়ি ফিরুন। সামনেই পুজো, সারা রাত ধরে ঠাকুর দেখার সাথে থাকবে আরও বিভিন্ন রকমের আইটেম—আলাদা করে একটু রেস্টও নিতে হবে তো এবার!