28/12/2024
28/12/2024
08:30pm
আর ৩০ মিনিট পর ডিউটি শেষ হবে, এমন সময় ক্যান্টিন থেকে ডাক আসলো। ক্যান্টিনের একটা ছেলে আমাকে ক্যান্টিনের চাবি নিয়ে যেতে বলল। আমি চাবি নিয়ে গেলাম। ক্যান্টিনের ছেলেটা আমাকে বলল, কিছু রুটি সবজি দিতাছি রুমে নিয়ে খেয়ে নিবে। আমি প্রথমবার বললাম না থাক লাগবে না। রুমে গিয়ে রান্না করে খেয়ে নেব। কিন্তু ক্যান্টিনের ছেলেটা জোর করে আমাকে চারটে রুটি আর সবজি দিয়ে দিল আমিও ভাবলাম নিয়ে নেই সত্যি কথা বলতে আমার পকেটে একটা টাকাও নেই। রুটিগুলো নিয়ে গেলে রান্না করা লাগবে না আমার জন্য ভালই হবে এই ভেবে নিয়ে নিলাম। ক্যান্টিন থেকে আস্তে আস্তে ডিউটি ছুটির দিকে। আমি ছুটি করে প্লান্ট থেকে বেরিয়ে আসলাম আমি একটা সাইকেল চালাই। সাইকেলটা খুব একটা ভালো না। খুব জোরে চালাতে গেলেই সাইকেলের চেইন পড়ে যায়। তাই আস্তে আস্তে সাইকেল চালাতে লাগলাম। অনেক দূর আসার পর ছোট একটা ছেলে খুব ঠান্ডার ভিতর পাতলা একটা টি শার্ট গায়ে তার। বিষয়টা আমি লক্ষ্য করলাম। সাইকেলটা আস্তে করে থমালাম। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম ,তোমার নাম কি? ছেলেটা উত্তর দিল। আমার নাম আকাশ। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম! এত ঠান্ডার ভিতরে তুমি একটা টি শার্ট গায়ে তোমার শীত করছে না? সিলেটে বলল না তেমন ঠান্ডা লাগছে না। শুনে আমার খুব হাসি পেল, কষ্ট লাগলো আসলে ওর কেউ নেই ঠান্ডা লাগলেও ওকে কিছু কিনে দেওয়ার মত কেউ নেই। তখন এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখলাম কোনো কাপড়ের দোকান আছে কিনা। কোন কাপড়ের দোকান নেই থাকলেও হয়তোবা কিছু করতে পারতাম না কারণ আমার পকেটে একটা টাকাও ছিল না ভাবলাম পকেটে কিছু টাকা থাকলে ছেলেটাকে দিয়ে কিছু খাওয়ার জন্য বলতাম কিন্তু উপায় নেই ক্যান্টিন থেকে যে চারটা রুটি নিয়ে আসলাম তার থেকে আমি তাকে দিতে চাইলাম কিন্তু সে নিল না ।বলল আমার খিদে নেই। আসলে ও ক্ষুধার্ত ছিল কিন্তু কেন আমার দেওয়া খাবার নিলো না আমি তা বুঝলাম না। ভগবান যদি কখনো আমায় সমর্থ্য দেয় তাহলে আমি এইসব মানুষদের পাশে দাঁড়াতে চাই।।।
ধন্যবাদ 🙏🙏