13/11/2024
ছোটোবেলায় জনসন পাউডারের গন্ধটা বড় ভালো লাগতো।আধোআধো একটা মা মা গন্ধ, আদরমাখা। একদিন শুনলাম ওতে নাকি অ্যাসবেস্টর মাখানো বিষ আছে, বড় হয়ে বুঝলাম আমার ছোটোবেলাটা অনেকটা মিথ্যে ছিলো।
ম্যাগি যেদিন স্কুলে নিয়ে যেতাম? সেদিন একটা অঘোষিত উৎসব। সকাল থেকে অপেক্ষা করে থাকতাম, কখন টিফিন হবে?সেই অপেক্ষা মেঘদূতের যক্ষের অপেক্ষার চাইতে কম কিছু ছিলো না বোধহয়। নীলাচলের শৈশব শেষে একদিন শুনি, ম্যাগি স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। ঐ হলুদ প্যাকেট, হলুদ পাখি সবটা বোধহয় মিথ্যে ছিলো ঐ চাঁদের চরকা কাটা বুড়িটার মতন, বড় হয়ে শুনি রূপকথা বলে কিছু হয় না,সবটাই গর্ত...খাদ।
স্কুলের সবচাইতে পড়াশোনায় ভালো যে মেয়েটার সবার আগে বিশাল বড় চাকরি পাওয়ার কথা ছিলো? সে এখোনো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যে উড়নচন্ডী মেয়েটার সাথে বড় মিল পেতাম পাহাড়ি এক ঝর্ণার? সে এখন বড় শান্ত এক নদী, কারোর মা ... কারোর স্ত্রী।
যে প্রতিবার অঙ্কে ফেইল করে চোখের জল ফেলতো বেঞ্চের ঐ কোণাটায় যেখানে কেউ বোধহয় মিড সামারে কম্পাস দিয়ে লিখেছিলো D+A, সে এখন কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরিজীবী। D আর A বহুদিন দেখেনি একে অপরকে। এখন শুনেছি কফিশপে, লেট নাইট পার্টিতে আড্ডা মেরে বলে সবাইকে "ছোটোবেলার প্রেম! কি যে বোকা ছিলাম! "
ইলেভেনের ভুল করে সায়েন্স নিয়ে পস্তানো ছেলেটা রোজ রাতে হেডফোনে কানে দিয়ে রেডিও স্টেশন থেকে ফেরে নামকরা রেডিও জকি হয়ে..."তখন আমি আলোর থেকেও ছুটছি জোরে, আঁকি গোল চৌকো আঁকি এক আঁচড়ে। "
২০০০ থেকে ২০২২,আমরা হারিয়ে ফেলেছি বহুজনকে। আমরা জানতেও পারিনি বহুজনের সাথে আমাদের ইতিমধ্যে শেষ দেখাটা হয়ে গিয়েছে। কখোনো স্কুলে, কখোনো কলেজ ক্যান্টিনে,পাড়ার মোড়ে, মোমোর দোকানে কিংবা মাঝরাতের ভিডিও কলে। তারিখ সিনেমাতে একটা ডায়লগ ছিলো অনেকটা এরকম,প্রতিবছর আমরা আমাদের মৃত্যুর দিনটাকে পেরিয়ে যাচ্ছি অজান্তেই। জানতেও পারছিনা ঠিক তারিখটাই একদিন জীবনের শেষদিন হয়ে দাঁড়াবে।
প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে ভাবছি কতটা, গড়ছি কতটা হিসেব রাখার সময় হয়নি।আবর্তন গতি যদি বন্ধ হয়ে যায় কোনোদিন, বোধহয় মহাকাল বলে যাবে কেউ বদলায় না, ওরা সবাই মিলে মানুষটাকে বদলে দেয়।