08/02/2023
বদলে নিচ্ছি একটু একটু করে
------------------------------------------
দীর্ঘদিন পরে বুঝতে পেরেছি যে আমি কোনোকিছুর মানদণ্ড নই যে সমস্ত জগত আমার ইচ্ছার ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে। তাই বদলে নিচ্ছি নিজেকে।
আমি দোকানে, বাজারে গিয়ে দু'পয়সা নিয়ে ঝগড়া করি না। কারণ আমি বুঝতে শিখেছি, দু'চার পয়সা বেশী খরচ হলে আমি দরিদ্র হয়ে যাব না। বরং যে লোকটি দু'পয়সা বেশী রোজগারের আশায় মাথার ঘাম পায়ে ফেলছে সে দু'পয়সা বেশী পেলে হয়ত তার বাচ্চাটির লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারবে। আমি বদলে যাচ্ছি।
আজকাল রিক্সা , অটো থেকে নেমে খুচরো টাকা নেবার জন্য অপেক্ষা করি না। যে লোকটি রাস্তায় পরিশ্রম করছে রাতদিন, ক'টা টাকা বেশী পেলে হয়ত তার মুখে হাসি ফুটবে। সেই হাসিটুকুর আশায় আমি নিজেকে বদলে দিচ্ছি।
বয়স্ক লোকদের বলা একই গল্প বারবার শুনেও থামতে বলি না। বুঝতে শিখেছি, এই গল্পগুলোর মধ্যে তাদের অতীতের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে, যা তাদের নিস্তরঙ্গ জীবনে কিছুটা আনন্দ বয়ে আনে।তাই, আমি আর সেই আগের মত তাদের কথা শুনে বিরক্ত হই না।
লোকের ভুল ত্রুটি দেখে তাকে শুধরে দেবার জন্য আগের মতন আর প্রাণপণ লড়াই শুরু করি না কারণ আমি বুঝতে শিখে গেছি, সারা পৃথিবীর লোকদের শোধরানোর দায় আমার নয়। বরং আমার মনের শান্তি আমার কাছে অনেক বেশী দামী।
আমাকে কেউ অবজ্ঞা করলে আমি আর আগের মত অপমানিত হই না, বরং দূরে সরে যাই তাদের থেকে। আমি বুঝি, তারা হয়ত আমার মূল্য বুঝতে না পেরে আমায় হেলা করছে, কিন্তু আমিতো জানি -আমার কাছে আমি অমূল্য।
আবেগের অপ্রত্যাশিত প্রকাশে আমি লজ্জিত হই না কারন আমি জানি যে এই আবেগগুলোই আমাকে ‘মানুষ’ বলে নিজের কাছে পরিচয় করিয়ে দেয়।
কখনো নিজের Egoকে আঁকড়ে ধরে থাকি না। বুঝে গেছি, Ego মানুষকে একাকীত্বের দিকে ঠেলে দেয়। বরং এটা ছেড়ে দিলে সম্পর্কগুলো সুন্দর হয়ে ওঠে।
প্রতিটি দিনকে জীবনের শেষ দিন মনে করে বাঁচি, তাই দিনের প্রতিটি মূহুর্তকে মূল্যবান মনে করে জীবনকে উপভোগ করে বাঁচতে শিখে গেছি।
আমি অন্তর দিয়ে অনুভব করেছি, নিজেকে আনন্দ দেবার জন্য অন্যের ওপর নির্ভর করতে নেই, আমার আনন্দের জন্য কেউ দায়ী নয়, আমি নিজেই সম্পূর্ণভাবে আমার সুখ, আমার আনন্দের জন্যে দায়ী।