M.Ajoy Ajoy Mazumder Siliguri.

বাড়ির ছাদে জবা গাছের ডালে একটা "বুলবুলি" তিনটা ডিম পেরেছে অপেক্ষায় আছি কবে ডিম ফুটে ছানারা বের হয়....!
14/07/2026

বাড়ির ছাদে জবা গাছের ডালে একটা "বুলবুলি" তিনটা ডিম পেরেছে অপেক্ষায় আছি কবে ডিম ফুটে ছানারা বের হয়....!

11/07/2026
04/07/2026

"এই রিক্সায়ালা, যাবে?"
হুড তোলা রিক্সাটা থমকে দাঁড়ায় গলির মোড়ে
পাদানিতে পা রেখে শুধাই—
"যাবে কি একটু পেছনের দিকে?"
​রিক্সায়ালা অবাক চোখে তাকায়
ক্লান্ত কপালে হাত মুছে সুধায়— "কোথায়?"
হৃদয়ের সবটুকু আকুলতা ঢেলে উত্তর আসে—
"আমায় ফিরিয়ে নিয়ে চলল আমার ছোটবেলায়।"

​প্যাডেলে চাপ পড়ে তবে চাকা ঘোরে উল্টো দিকে
পিচ রাস্তা পেরিয়ে রিক্সা ছোঁটে ধুলোমাটির চেনা ঘ্রাণে।
নিমেষে মুছে যায় চুলে ধরা রুপোলি রেখা
চোখের কোণে ভেসে ওঠে পুরনো পাড়ার সেই ফেলে আসা দিন
কিংবা স্কুলফেরত বন্ধুদের চিল চিৎকার
পকেটে লাল ছোট কুল আর পায়ে কাদা-মাখা ফুটবল।

​হাওয়ায় উড়তে থাকে শৈশবের সেই চেনা বিকেলগুলো
যেখানে কোনো তাড়া ছিল না ছিল না কোনো হিসেব-নিকেশ।
আজকের এই ব্যস্ত শহরের কোলাহল ছাপিয়ে
রিক্সার পক পক হর্ন যেন এক জাদুমন্ত্রে—
মুহূর্তেই ফিরিয়ে দেয় হারানো সেই সোনালী দিন।
​টাকা নয় এ যাত্রার ভাড়া মেটাতে হয় দীর্ঘশ্বাসে
স্মৃতির হুডখোলা রিক্সা আজও দাঁড়িয়ে থাকে মনের কোনো এক অচিন কোণে।

অজয় মজুমদার

মহাজীবনের শেষ স্টেশন: এক আত্মোপলব্ধির খোঁজে।​রোজ হয়তো ব্যস্ততার নিয়মে পেরে উঠবেন না, কিন্তু অন্তত সপ্তাহে একটা দিন কিংবা...
30/06/2026

মহাজীবনের শেষ স্টেশন: এক আত্মোপলব্ধির খোঁজে।

​রোজ হয়তো ব্যস্ততার নিয়মে পেরে উঠবেন না, কিন্তু অন্তত সপ্তাহে একটা দিন কিংবা মাসে একটা বিকেল বা রাত বের করে কোনো এক শ্মশানে গিয়ে চুপচাপ বসুন। চারটে কি পাঁচটা ঘণ্টা কাটান স্রেফ নিজের সাথে, কোনো তাড়া ছাড়া।
​চারপাশের চেনা কোলাহল থেকে দূরে, ওই গঙ্গার ঘাট কিংবা নদীর পাড়ে জ্বলতে থাকা চিতাগুলোর দিকে তাকিয়ে শুধু বসে থাকুন। তখন আপনি শহরের নামী ধনী নাগরিক, নাকি ফুটপাথের কোনো দীনদরিদ্র; আপনি মস্ত বড় উচ্চশিক্ষিত পণ্ডিত, নাকি এক অক্ষর না জানা কোনো মানুষ—সেইসব জাগতিক পরিচয়কে শ্মশানের হাওয়া এক নিমেষে উড়িয়ে নিয়ে যাবে। আপনার অগাধ জ্ঞান, আপনার সামাজিক প্রতিষ্ঠা, আর যে অহংকারকে আমরা রোজ যত্ন করে বুকে পুষে রাখি—সব কিছু কেমন যেন ফিকে, অর্থহীন আর খড়কুটোর মতো হালকা মনে হবে।
​শুধু একদৃষ্টে তাকিয়ে দেখুন ওই লেলিহান আগুনের শিখাগুলোর দিকে। দেখুন, কেমন করে একটা জলজ্যান্ত মানুষের শরীর, যার একটা নাম ছিল, একটা মস্ত ইতিহাস ছিল, এক বুক আশা-আকাঙ্ক্ষা আর এক পৃথিবী অভিমান ছিল—তা কেমন অবলীলায় চোখের সামনে পুড়ে খাক হয়ে যাচ্ছে। যা কিছুকে আঁকড়ে ধরে মানুষ আজীবন ‘আমার আমার’ বলে লড়াই করে গেল, তা মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এক মুঠো ধূসর ছাইয়ে পরিণত হচ্ছে।
​সেখানে কোনো ভেদাভেদ নেই। একই কাঠে পুড়ছে কোটিপতির শরীর, একই আগুনে বিলীন হচ্ছে নিঃস্বের দেহও। চিতার ওই লেলিহান শিখা যেন আমাদের কানে কানে এক পরম সত্য ফিসফিসিয়ে বলে যায়—"তুমি যা নিয়ে অহংকার করছো, তা ক্ষণস্থায়ী; আর এই ছাই হয়ে যাওয়াই হলো চরম গন্তব্য।"
​এই চার-পাঁচ ঘণ্টার নীরবতা আপনাকে কোনো বিষণ্ণতা দেবে না, বরং এক অদ্ভুত মানসিক শান্তি আর এক নতুন জীবনের আলো দেবে। চিতার আগুন থেকে চোখ ফিরিয়ে যখন আপনি আবার চেনা পৃথিবীতে পা রাখবেন, তখন দেখবেন মানুষের প্রতি আপনার রাগ, ক্ষোভ, লোভ আর অহংকার অনেকটাই কমে গেছে। আপনি বুঝতে পারবেন, এই কয়েকদিনের জীবনে ভালোবেসে আর শান্তিতে বেঁচে থাকার চেয়ে বড় কোনো প্রাপ্তি আর হতেই পারে না।

#বাউন্ডুলে~

18/06/2026

ভাঙনের জলছবি।
অজয়।

​অঝোরে বৃষ্টি আসে, যেমন আসে আদিম প্লাবন,
দুকূল ছাপিয়ে নদী মেখে নেয় আকাশের কান্নামিলন।
মাটির শরীর ভেঙে জল চলে যায় দূরে, আরো দূরে,
সবকিছু বদলে যায় এক লহমায়, চেনা কোনো সুরের নুপুরে।

​অনেকটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিল একলা বকুল গাছ,
বুকে নিয়ে তার স্নিগ্ধ সুবাস, শান্ত সবুজ কাচ।
নদী থেকে তার দূরত্ব ছিল ঢের, অনেকটাই নিরাপদ,
কেউ ভাবেনি ছুঁয়ে যাবে তারে মহাকালের এই ক্রুর পদ।

​কেউ তো ভাবেনি কখনো, নদীর ওই তৃষ্ণার্ত গ্রাস
এমন অতর্কিতে কেড়ে নেবে বকুলের শেষ নিশ্বাস!
সাজানো দূরত্ব মুছে দিয়ে, সব অহংকার ভেঙে চুরে,
নদী আজ বকুলকেও টেনে নিল নিজের গহন গর্ভপুরে।

​সবুজ পাতার স্মৃতি ভেসে যায় ঘোলা জলের স্রোতে,
প্রকৃতি এভাবেই গল্প বদলায়, নিয়তির এক টানেতে।

13/06/2026

একটি ছোট্ট ভাবনা....!
M.Ajoy
রাজনীতি বা শাসনের পরিবর্তন হয়তো ক্ষমতার রঙ বদলায়, কিন্তু সাধারণ মানুষের রুটি-রুজি আর শিশুদের ভবিষ্যৎ যখন অনিশ্চয়তায় পড়ে, তখন যেকোনো পরিবর্তনই তার আসল অর্থ হারিয়ে ফেলে।

12/06/2026
10/06/2026

ক্ষমতার অলিন্দে যখন অন্ধ অহংকার বাসা বাঁধে, তখন শাসকেরা ভুলে যায় যে সময়ের চেয়ে বড় বলবান আর কেউ নেই। যারা একদিন ভিন্নমতকে স্তব্ধ করতে রাষ্ট্রশক্তি বা পেশ পেশির জোরে মুখ বন্ধ রাখার ফতোয়া জারি করেছিল, আজ ইতিহাসের এক অদ্ভুত নিয়তিতে তারা নিজেরাই বাক্যহারা। এই নীরবতা কোনো কৌশল নয়, এ হলো নৈতিক দেউলিয়াপনার চরম বহিঃপ্রকাশ।
​একটি সমাজের মানুষের ভেতর কতটা পুঞ্জীভূত অপমান জমা হলে, বহু বছরের চেনা 'মাননীয়' সম্বোধনটা এক রাতের ঝড়ে ধূলিসাৎ হয়ে ‘তুইতুকারি’র ক্রোধে পরিণত হয়, তা আজ স্পষ্ট। রাজপথে আজ কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষের তাড়া খাচ্ছেন সদ্য প্রাক্তনরা। কোথাও ধেয়ে আসছে ডিম, কোথাও আবার একদা দাপিয়ে বেড়ানো জনপ্রতিনিধিদের প্রকাশ্য রাস্তায় মাথা নিচু করে গণ-আদালতের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এগুলো কোনো পরিকল্পিত আন্দোলন নয়, এ হলো দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া সাধারণ মানুষের এক চরম সামাজিক প্রতিক্রিয়া।
​এই বারুদের স্তূপে আগুন লেগেছে দীর্ঘদিনের কিছু ক্ষত থেকে
যোগ্য যুবকদের মেধা যখন সর্ষের তেলের মতো খোলা বাজারে বিক্রি হয়ে যায়, সমাজ তখন বিচার চেয়ে গুমরে মরে। যখন কোনো নির্মম নারী নির্যাতনের ঘটনাকে স্রেফ একটা 'ছোট্ট দুর্ঘটনা' বলে লঘু করার ধৃষ্টতা দেখানো হয়, তখন সাধারণ মানুষের ঘরের মা-বোনেদের বিবেক কেঁদে ওঠে। একদিকে যখন সৎ কর্মচারীরা তাদের হকের অধিকার থেকে বঞ্চিত হন, আর অন্যদিকে খোদ পাড়ার বুথ স্তরের নেতার ঘরেও যখন কোটি টাকার পাহাড় বা ত্রাণের সামগ্রী লুকানো থাকে—তখন খেটে খাওয়া মানুষের ধৈর্যচ্যুতি ঘটে। একজন সাধারণ ছোট ব্যবসায়ীও আজ বুক ঠুকে বলতে পারেন যে, দুর্নীতির এই শিকড় কতটা গভীরে ঢুকে গিয়েছিল।
​সবচেয়ে বড় বিস্ময় লুকিয়ে আছে এই পতনের পরের স্তব্ধতায়। যে দলটা গতকাল পর্যন্ত রাজ্যের প্রতিটা মোড়ে নিজেদের একাধিপত্য কায়েম করে রেখেছিল, আজ তাদের কোনো এক শীর্ষ নেতার লাঞ্ছনার পরও রাজপথ সম্পূর্ণ জনশূন্য। কোনো পাল্টা মিছিল নেই, কোনো প্রতিরোধ নেই। অথচ, নামমাত্র শক্তি অবশিষ্ট থাকা বিরোধী দলগুলোকেও আজ মানুষের অধিকার রক্ষায় বুলডোজারের সামনে দাঁড়িয়ে লড়াই করতে দেখা যাচ্ছে।
​এই সদ্য ক্ষমতাচ্যুতরা আজ কেন এমন দিশেহারা? কেন তাদের শীর্ষ থেকে তলানি পর্যন্ত সবাই আজ অদৃশ্য?
​আসলে, প্রতিবাদের জন্য একটা ন্যুনতম নৈতিক ভরসার প্রয়োজন হয়। যখন নিজেদের তৈরি করা আয়নার সামনে দাঁড়ানোর সাহসটুকু হারিয়ে যায়, তখন মুখের ভাষাও কেড়ে নেয় প্রকৃতি। অতীতে বহু রাজনৈতিক চাণক্যই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, আদর্শহীন এই ক্ষমতার ইমারত ভাঙলে তা তাসের ঘরের মতো মিলিয়ে যাবে। আজ যেন সেটাই বাস্তব। মহানগরের সর্বোচ্চ পুর-প্রশাসক থেকে শুরু করে সাংসদ-বিধায়কদের একাংশ আজ হয় পদত্যাগের আড়ালে মুখ লুকাচ্ছেন, নয়তো দল ছাড়ার পথ খুঁজছেন।
​প্রতিদিন সকালের খবরের কাগজ কিংবা সামাজিক মাধ্যমের পাতা ওল্টালেই যে সমস্ত কীর্তিকলাপের খতিয়ান সামনে আসছে, তা দেখে সাধারণ নাগরিক আজ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। পাড়ার চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে আজ মানুষ বলছেন, 'সময়মতো এই পরিবর্তনটা না এলে, হয়তো এই সমাজের মেরুদণ্ডটাই চিরতরে ভেঙে যেত।'
​ইতিহাস সাক্ষী, যারা একদিন অন্যের কণ্ঠরোধ করতে চেয়েছিল, আজ তারা নিজেরাই নিজেদের পাপের বোঝায় নির্বাক, নিস্তব্ধ এবং পথহারা।

অজয় মজুমদার।

Address

Siliguri Industrial Area (Jalpaiguri)

Telephone

+917908081119

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when M.Ajoy posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category