25/05/2026
আরাফার দিন ইসলামের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন। যিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখে এই দিনটি আসে। বিশেষ করে হজরত মুহাম্মদ ﷺ এই দিনের ফজিলত সম্পর্কে বহু হাদিসে আলোচনা করেছেন। এটি এমন একটি দিন, যেদিন আল্লাহ তাআলা বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমত বর্ষণ করেন, গুনাহ মাফ করেন এবং দোয়া কবুল করেন।
আরাফার দিনের গুরুত্বঃ
১. দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ দিন
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“সর্বোত্তম দোয়া হলো আরাফার দিনের দোয়া।”
— Jami` at-Tirmidhi, হাদিস: ৩৫৮৫
আরেক বর্ণনায় এসেছে:
“আমি এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণ আরাফার দিনে সবচেয়ে উত্তম যে দোয়া পড়েছি তা হলো—
لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ”
অর্থ:
“আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। সমস্ত রাজত্ব ও প্রশংসা তাঁরই, এবং তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।”
২. আল্লাহ সবচেয়ে বেশি মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন
রাসূল ﷺ বলেছেন:
“আরাফার দিনের চেয়ে এমন কোনো দিন নেই যেদিন আল্লাহ অধিক সংখ্যক বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন।”
— Sahih Muslim, হাদিস: ১৩৪৮
এই দিনে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের নিয়ে ফেরেশতাদের সামনে গর্ব করেন।
৩. গুনাহ মাফের সুবর্ণ সুযোগ
যারা হজে নেই, তাদের জন্যও আরাফার দিনের রোজা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, এটি আগের এক বছর এবং পরের এক বছরের গুনাহের কাফফারা হবে।”
— Sahih Muslim, হাদিস: ১১৬২
“আল্লাহ কাউকে ফেরান না” — কথাটার অর্থ
মানুষের মুখে আমরা প্রায়ই শুনি, “আরাফার দিনে আল্লাহ কাউকে ফেরান না।”
এ কথার মূল অর্থ হলো— এই দিনে আল্লাহর রহমত, ক্ষমা ও দোয়া কবুলের দরজা ব্যাপকভাবে খুলে দেওয়া হয়। তবে দোয়া কবুল হওয়া আল্লাহর হিকমতের উপর নির্ভরশীল। কখনো সঙ্গে সঙ্গে, কখনো পরে, আবার কখনো এর বদলে বড় কোনো বিপদ দূর করে দেওয়া হয়।
তাই এই দিনে বেশি বেশি—
তওবা করা
ইস্তিগফার পড়া
দুরুদ শরিফ পড়া
নিজের ও পরিবারের জন্য দোয়া করা
উম্মাহর জন্য দোয়া করা
খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আরাফার দিনের আমল
রোজা রাখা (হজে না থাকলে)
বেশি বেশি তাকবীর, তাহলীল, তাসবীহ পড়া
কুরআন তিলাওয়াত
আন্তরিকভাবে কান্নাকাটি করে দোয়া করা
হারাম থেকে তওবা করা
আল্লাহ আমাদের সবাইকে আরাফার দিনের ফজিলত অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।