30/07/2026
দেখলেই ঝাপিয়ে পইড়েন না। চলতে ফিরতে রাস্তার মোড়ে বা মসজিদের বাইরে এমন কিছু মধুওয়ালা দেখবেন।
যাদের দেখে মনে হবে বেশ সহজ-সরল, বোকা-সোকা টাইপের, কিছুই বোঝে না। যেন পাহাড় থেকে ভুলে লোকালয়ে চলে এসেছে, কিংবা এইমাত্র গাছ বা চাক কেটে কোনো রাস্তার মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে টাটকা মধু নিয়ে।
এক কথায় বলতে গেলে, এগুলো ‘মধু’ নামের বিষাক্ত কেমিক্যাল! মুখে দিলে কষ কষ লাগবে, আর গন্ধটা হবে সেই ছোটবেলার ১ টাকার লজেন্সের মতো। কিন্তু তারা আপনাকে বলবে, এটা পাহাড়ি মধু, কিংবা মাত্রই গাছ থেকে কেটে আনা খাঁটি মধু।
ভাই, একটা কথা সবসময় মনে রাখবেন, সত্যিকারের ভালো মধু হলে তা পাহাড় বা জঙ্গল থেকে এভাবে জনবসতিতে ফেরি করে বিক্রি করতে হতো না, ওখানকার মানুষই সব রেখে দিত। ভালো মধু কখনো এভাবে রাস্তার মোড়ে বা রোডে বিক্রি করতে হয় না, তা জায়গায় নামানোর থেকেই বিক্রি হয়ে যায়।
অবশ্যই কারও ব্যবসার প্রতি আমার কোনো আপত্তি নেই। সে বিশুদ্ধ ও ভালো মধু নিয়ে ব্যবসা করুক, চারটে টাকা সৎভাবে আয় করুক, তার জীবন-জীবিকা চলুক, সেটাই চাই।
তবে বেশ কিছুদিন ধরে নিজের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, এই টাইপের মধুগুলোর বেশিরভাগই ভেজাল। ল্যাবে পোলেন টেস্ট করলে দেখা যাবে, এগুলোতে কোনো পোলেনের অস্তিত্বই নেই!
ভেজালকারীদের উৎপাত বেড়ে যাওয়ার পেছনে আমাদেরও কিছু দায় আছে। আমরা লোভে পড়ে এসব মধু ক্রয় করি। পরে সকল বিক্রেতাকে ভেজালকারী বলে ধুয়ে দেই। এই জন্য নুন্যতম কিছু ধারণা নিয়ে মধু বা যে কোন পন্য ক্রয় করা উচিৎ।
তাই মধু কিনতে হলে তাদের কাছ থেকেই কিনুন, যারা প্রান্তিক পর্যায় থেকে বিশ্বস্ততার সহিত মধু সংগ্রহ করে।
তাছাড়া আমি প্রায়সই বলি, মধু খেলে প্রাকৃতিক চাকের টা খাওয়ার চেষ্টা করুন। কোন প্রকার কৃত্রিমতা নেই।
হরেক রকমের ফল-ফুল থেকে মৌমাছিরা মধু সংগ্রহ করে বন-জঙ্গল গাছের ডালে বা বাড়ির সানসেডের নিচে চাক বাঁধে। আমরা আমাদের টিমের উপস্থিতিতে মাওয়াল দিয়ে মধু গুলো কাটাই, তার পর ফ্রেস ভাবে আপনাদের কাছে পৌছে দেই।
মহান রবের এক অনন্য অনুগ্রহ আমাদের জন্য এই প্রাকৃতিক চাকের মধু।