04/03/2026
বাসুদেব ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ (মহল্লাদার) মোঃ ছাদেকুর রহমান বাসুদেব বাজার সংলগ্ন বাণিজ্যিক ভূমি, খাল ও ডোবা (যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ০৩ কোটি টাকা) কৃষি খাস জমি বন্দোবস্ত মোকদ্দমা নং-১৫/২০১৬-২০১৭ এর মাধ্যমে কৃষি ভূমি হিসেবে ২০১৭ সালে এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে বাসুদেব আশ্রয়ন প্রকল্পের একাধিক প্লট দুর্ণীতির মাধ্যমে মিথ্যা, বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করে বন্দোবস্ত নিয়েছেন।
বাসুদেব ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব গ্রামের অধিবাসী, বাসুদেব ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ (মহল্লাদার) মোঃ ছাদেকুর রহমান, পিতা –মৃত আব্দুছ ছামাদ। বাসুদেব বাজার সংলগ্ন বাসুদেব মৌজার এস.এ ও সি.এস দাগ নং-৩৭২ (খাল) সাধারণের ব্যবহার্য, এস.এ রেকর্ডে ৩৭২ দাগের শ্রেণী খাল। সাবেক ৩৭২ দাগটি বর্তমান জরিপে ৭৩২ দাগে পরিবর্তিত হয়ে শ্রেণী পতিত হিসবে ভুলভাবে রেকর্ড ভুক্ত হয়েছে। এই খালটি মূলত বাসুদেব বাজারের ও পার্শবর্তী ঘরবাড়ির পানি নিষ্কাশন হয়ে থাকে। এই খালটির কিছু অংশ প্রাকৃতিক ভাবে ভরাট হলেও এর বেশিরভাগ অংশ ছাদেকুর রহমান আওয়ামী ফ্যাসিবাদিদের সহযোগিতায় এটি ভরাট করে ফেলে বাণিজ্যিক ও আবাসিক স্থাপনা নির্মাণ করেন। যার ফলে ২০ ফিট প্রশস্ত খালটি আজ ২-৩ ফিটের নালায় পরিণত হয়েছে। উক্ত দাগের ৪০ শতক ভূমির মধে ১৫ শতক (প্রায়) ডোবা, (ডোবার অংশটুকু ৭২৬ দাগের ১ নং খাস খতিয়ানের বারা দিঘী নামক দিঘীর জলরাশির সাথে সংযুক্ত) ১০ শতক (প্রায়) পাড়া প্রতিবেশী চলাচলের রাস্তা, ০৫-০৭ শতক (প্রায়) জায়গায় দোকান ঘর ও বাড়িঘর রয়েছে।
সাবেক ৩৭২ দাগটি বর্তমান জরিপে ৭৩২ দাগে পরিবর্তিত হয়ে শ্রেণী পতিত হিসবে ভুলভাবে রেকর্ড ভুক্ত হয়েছে। উক্ত ভূমি ঘেষে অনেকেরই ঘর দরজা দোকান পাট রয়েছে। পুকুর (দাগ নং-৭৩৩) এর পাড় এই ভূমির সাথে সংযুক্ত। এই ভূমি সংলগ্ন ০১ টি রাইস মিল রয়েছে (ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প), এর যাতায়তের পথ এই ভূমির উপর নির্ভরশীল । এছাড়াও ৭২৯,৭৩০ ও ৭৩১ দাগ এর বেশ কয়েকটি বাড়ি অত্র ভূমি সংলগ্ন হওয়ায় তাদের যাতায়তের ও বিকল্প রাস্তা নেই। তিনি এই ভূমিতে বিন্দু মাত্র কোন ধরনের কৃষি আবাদ করেন না ফলে কবুলিয়তের ৮ নং শর্ত “ চাষাবাদ ছাড়া আর কোন উদ্দেশ্যে এই জমি ব্যবহার করিতে পারিব না, তবে আমাদের নিজস্ব বসতবাটি না থাকিলে জেলা প্রশাসকের লিখিত অনুমতি লইয়া প্রাপ্ত জমির এক প্রান্তে সর্বাধিক ০.০৮ একর জমি বসতবাটি হিসাবে ব্যবহার করিতে পারিব।” এবং ১২ নং শর্ত “ যদি ন্যায্য এবং উপযুক্ত কারণ ব্যতীত আমরা সমগ্র জমি বা উহার কোন অংশ একাধারে গোটা এক বছর আবাদ করিতে না পারি তাহা হইলে জেলা প্রশাসক মহোদয় উক্ত জমি খাস করিতে পারিবেন। এই সকল শর্ত গুলো তিনি কখনোই পরিপালন করেননি। তার ছেলে মশিউর রহমান (মহসিন) এর নামে আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর বন্দোবস্ত নিয়েছেন ও মশিউর রহমান (মহসিন) এর শাশুড়ির নামে ও আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর বন্দোবস্ত নিয়েছেন।
অপরদিকে গত ২৩.০২.২০২৬ খ্রি. তারিখে ডোবাটি ভরাট ও দখলের জন্য তিনি লোকবল ও বাশঁ নিয়ে ডোবার নিকট জড়ো করেন। মহল্লাবাসী বাধা প্রদান করলে তিনি তা থেকে বিরত হন। তবে শীগ্রই তিনি এই ডোবাটি ভরাট ও দখলের জন্য চেষ্টা করবেন বলে লোকমুখে শোনা যাচ্ছে।
শুধুমাত্র তাই নয় তৎকালীন আওয়ামী ফ্যাসিবাদি সময়ে বাসুদেব ইউনিয়নের যে সমস্ত খাস কৃষি জমি ও যা বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে তা শুধুমাত্র বাসুদেব ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার আবু ছায়েদ ও মহল্লাদার দারু মিয়া, মজনু মিয়া, হিরন খাঁ ও জিলু মিয়া কে বন্দোবস্ত প্রদান করেছেন, কোন ধরণের প্রচার বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে। আশ্রয়ন প্রকল্পের একাধিক প্লট ও এ সকল গ্রাম পুলিশের পরিবারের সদস্যদের নামে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ফলে বাসুদেব ইউনিয়নের প্রকৃত ভূমিহীন কৃষক ও আশ্রয়হীনরা বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট এবং বাসুদেব বাজারের বানিজ্যিক ভূমি বেদখল হয়ে যাচ্ছে।